ফাতেমার শরীরের বেশিরভাগ জায়গা ছিল ব্যান্ডেজ করা

বাগেরহাট প্রতিনিধি
২২ মার্চ ২০১৭, ১২:২০আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৭, ১২:২০

 

নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত গৃহকর্মী ফাতেমা শরীরে গরম পানি ঢেলে ও আগুনে পুড়িয়ে নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী ফাতেমার মরদেহের ময়না তদন্ত বাগেরহাট সদর হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। তার শরীরের বেশিরভাগ জায়গায় ছিল পুড়ে যাওয়ার ক্ষত। ক্ষত স্থানগুলো ছিল ব্যান্ডেজ করা। ময়না তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, ফাতেমার মুখ, দুই হাত, পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যান্ডেজ করা ছিল। 

মঙ্গলবার বিকালে গৃহকর্মী ফাতেমার ময়না তদন্তের সময় বাগেরহাট সদর হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. শেখ রিয়াদুজ জামানের নেতৃত্বে একটি মেডিক্যাল টিম উপস্থিত ছিল।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মোশারেফ হোসেন বুধবার সকালে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অগ্নিদগ্ধ ফাতেমার ময়না তদন্ত করা হয়েছে। তবে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ বিষয়ে কোনও তথ্য দেওয়া যাবে না।’

এদিকে, গরম পানি ঢেলে ও আগুনে পুড়িয়ে গৃহকর্মী ফাতেমাকে হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের বাগেরহাট জেলা শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট পারভীন খানম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে আটক করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আমরা কঠোর কর্মসূচি গ্রহণে বাধ্য হবো।’

কাপড় ধোয়ার সময় এক কাপড়ের রঙ অন্য কাপড়ে লেগে যাওয়ার অপরাধে গৃহকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও তার ছেলে আশিকের হাতে মারধরের শিকার হন গৃহকর্মী ফাতেমা। এরপর গৃহকর্ত্রী সালমা তার গায়ে ঢেলে দেন ফুটন্ত গরম পানি। ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে ওই গৃহকর্মীকে বাথরুমে আটকে রেখে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আর  প্রচার করা হয়, নিজেই গায়ে আগুন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ওই গৃহকর্মী। গত বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) ঢাকার দক্ষিণ কেরানীঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার জনৈক দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর দগ্ধ ফাতেমাকে ঢাকার কোনও হাসপাতালে ভর্তি না করে একটি প্রাইভেটকারে করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ফেলে চলে যান ওই গৃহকর্তা। হাসপাতালে চারদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মঙ্গলবার (২১ মার্চ) সকালে মারা যান গৃহকর্মী ফাতেমা।

এ সংক্রান্ত আরও খবর:

শরীরে গরম পানি ঢেলে ও আগুনে পুড়িয়ে গৃহকর্মীকে হত্যা (অডিও)

/বিএল/এসটি/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে