রাউধার জিনিসপত্র মালদ্বীপ নিয়ে যাচ্ছে তার পরিবার

দুলাল আবদুল্লাহ, রাজশাহী
০২ এপ্রিল ২০১৭, ১২:২৩আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৭, ১২:২৩

রাউধা আথিফ রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রী ও মালদ্বীপের মডেল রাউধা আথিফকে রাজশাহীতে দাফন করা হলেও তার সব জিনিসপত্র বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। তার জামা-কাপড় ও ব্যবহারের অন্যান্য সরঞ্জাম সবই নিয়ে যাচ্ছেন তারা। রবিবারই (২ এপ্রিল) রাউধার স্বজনদের বাংলাদেশ থেকে চলে যাওয়ার কথা রয়েছে। রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের সেক্রেটারি আব্দুল আজিজ রিয়াদ বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আব্দুল আজিজ রিয়াদ জানান, ‘২০১৬ সালের ১৪ জানুয়ারি থেকে রাউধা ইসলামী মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের ২০৯ নম্বর রুমে থাকতো। রুমটা নিজের মতো করে সাজিয়ে রাখতো সে। রাউধার পরিবার রবিবার মালদ্বীপের উদ্দেশে রওনা হবে। ২০৯ রুম থেকে তার ব্যবহৃত পোশাক, বইসহ শখের ছোটখাট জিনিসগুলো নিয়ে গেছেন তারা।’

এর আগে শনিবার (১ এপিল) রাউধা আতিফের লাশ রাজশাহী নগরীর হেতমখাঁ কবরস্থানে দাফন করা হয়। শনিবার দুপুরে পুলিশের সহযোগিতায় রাউধার পরিবারের সদস্যরা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সেখানে রাউধাকে সমাহিত করা হয়। এ সময় মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আইশা শান শাকির, রাউধার বাবা মোহাম্মাদ আথিফ, মা আমিনাথ মুহারমিমাথ, ভাই হাসান আথিফসহ পরিবারের ১১জন সদস্য, রাউধার সহপাঠি এবং পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানান কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের অর্গানাইজার এনায়েত কবীর মিলন।

দাফনের সময় রাউধা আথিফের মা আমিনাথ মুহারমিমাথ কবরস্থানের ভেতর জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে বসানো হলে জ্ঞান ফিরে আসে। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন রাউধার পরিবারের সদস্যরা। রাউধা আথিফ

মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারি কমিশনার (এসি) ইফতে খায়ের আলম বলেন, শুক্রবার দুপুরে রাউধা আথিফের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তরের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছিল। রাউধার লাশ কোথায় দাফন করা হবে এ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা ছিল মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূতসহ তার পরিবার।

শনিবার সকালে তার বাবা মোহাম্মাদ আথিফ জানায় তাদের পরিবারের সদস্যরা রাউধাকে রাজশাহীতে দাফন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অনুরোধ জানানো হয়। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে রাউধার লাশ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। তবে কেন তারা লাশ নিজ দেশে নিয়ে গেলেন না সে ব্যাপারে তারা কিছু জানাননি তারা।

এদিকে শনিবার দুপুরে রাউধা আথিফ আত্মহত্যা করেছে বলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন শাহমুখদুম থানায় জমা দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ময়নাতদন্তের জন্য গঠিত তিন সদস্যের একজন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক এমদাদুল হক। তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্তে যৌন নির্যাতনসহ অন্য কিছু আলামত পাওয়া যায়নি। আর ট্যাবলেটসহ অন্য কিছু খেয়েছিল কিনা। তা ভিসেরা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সে ভিসেরা প্রতিবেদন আসলে তখন আরও কিছু বুঝা যাবে। তবে ফাইনালে সে আত্মহত্যার বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে ময়নাতদন্তে।’ রাউধাকে সমাহিত করতে রাজশাহীতে আসেন তার পরিবারের সদস্যরা

ফরেনসিক বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক এমদাদুল হক বর্তমানে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজে চাকরি করেন। তার দৃষ্টিতে রাউধা আথিফ কেমন ছিল জানতে চাইলে এমদাদুল হক বলেন, ‘সে পড়তো দ্বিতীয় বর্ষে। আর আমি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিয়ে থাকি। তাই তাকে আমি পাইনি। তবে রাউধার বাবা-মার ডিভোর্স ছিল। পারিবারিক কোন্দলে মানসিক চাপে আত্মহত্যা করেছি না অন্য কারণে করেছে বলা মুশকিল হচ্ছে। পুলিশ ও ইসলামী মেডিক্যাল কলেজ প্রশাসন পৃথকভাবে তদন্ত করছে। তাদের তদন্ত শেষ হলে জানা যাবে।’

রাউধার বাবা ভারতে ও মা মালদ্বীপে। রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের সেক্রেটারি আব্দুল আজিজ রিয়াদ বলেন, ‘বিদেশি শিক্ষার্থীরা মিডিয়ার মাধ্যমে মেডিক্যালে ভর্তি হয়। মিডিয়ায় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেন। মিডিয়া তার বাবার কাছে না মায়ের কাছে অর্থ নিয়ে জমা দেন। সেই বিষয়টা আমরা দেখি না। তবে তার টাকা ব্যাংক আকাউন্টে নিয়মিত আসতো।’

তার স্মৃতি ধরে রাখতে কোনও কিছু মেডিক্যাল ক্যাম্পাসে করার পরিকল্পনা আছে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা তার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল, শোকসভা, ব্যানার করেছি। আগামীতেও ছাত্রী হোস্টেলে দোয়া মাহফিল করা হবে।’ ভোগ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে রাউধা

উল্লেখ, ১৯৯৬ সালে ১৮ মে জন্ম মালদ্বীপের মেয়ে রাউধা আথিফের। গত বুধবার (২৯ মার্চ) দুপুরে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রী হোস্টেলের ২০৯ নম্বর কক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের পর পুলিশে জানিয়েছিল সিলিং ফ্যানের সঙ্গে কাপড় বেধে গলায় ফাঁস দিয়ে রাউধা আত্মহত্যা করে। তবে পুলিশ পৌঁছার আগেই তার সহপাঠিরা ঝুলন্ত রাউধার লাশ নামিয়ে ফেলেছিল।

রাউধা রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। রাউধা পড়ালেখার পাশাপাশি মডেলিং করতেন। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে বিশ্বখ্যাত ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনের ভারতীয় সংস্করণেও তিনি মডেল ছিলেন। ওই সংখ্যার প্রচ্ছদেও আরও পাঁচ নারী মডেলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাউধা।

/এফএস/ 

আরও পড়ুন- 



শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মঙ্গল শোভাযাত্রার নির্দেশে ক্ষুব্ধ কওমিপন্থীরা

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা, রায় রবিবার
শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা, রায় রবিবার
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান