দুই কারণে এমপি লিটন হত্যা, চার্জশিট এ সপ্তাহে

লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
০৩ এপ্রিল ২০১৭, ২০:১৫আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৭, ২০:২২

নিহত এমপি লিটন দুর্নীতি ধরিয়ে দিতে সহযোগিতার কারণে প্রতিশোধপরায়ন হয়ে এবং সংসদ সদস্য হওয়ার পথ সুগম করতে আওয়ামী লীগ নেতা ও গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন সাবেক জাপা দলীয় সাংসদ কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খান। তদন্তে এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। 
এদিকে এমপি লিটন হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লাইসেন্সবিহীন পিস্তল রাখার অভিযোগে দায়ের করা অস্ত্র আইন মামলায় হত্যাকাণ্ডের মূল নায়ক কাদের খানের বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহেই চার্জশিট দাখিল করা হচ্ছে। সোমবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী পুলিশ পরিদর্শক মুখতারুল আলম।
এমপি লিটন হত্যা মামলার চার্জশিট চূড়ান্ত হলে চলতি মাসের মধ্যে দাখিল করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন রংপুরে অবস্থিত পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুখের কার্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, শিগগিরই চার্জশিট দাখিল করা হবে।
চার্জশিটে কোনও ভুলভ্রান্তি আছে কিনা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তা পরীক্ষা করে দেখছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মামলায় কাদের খানকে প্রধান আসামি করে আনোয়ারুল ইসলাম রানা, মেহেদী হাসান, শাহীন, হান্নান, শামীম, শামসুজ্জোহা সুবল ও চন্দন; এই ৯ জনের নামে চার্জশিট দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, দুটি কারণে এমপি লিটনকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা কাদের খান। প্রথমত, জাপা দলীয় সাংসদ থাকাকালে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে দুস্থ মানুষদের জন্য তার নামে বরাদ্দ ত্রাণ হিসেবে প্রদান করা প্রায় ২০০ মেট্রিক টন চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেন কাদের খান। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে দুদক আইনে একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলা দায়েরের ব্যাাপারে দুদককে সহযোগিতা প্রদানের পাশাপাশি অভিযোগ দায়ের করার ব্যাাপারে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন লিটন।

দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে, ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী লিটনের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন কাদের খান। তিনি পেয়েছিলেন মাত্র ১০ হাজার ভোট। হেরে যাওয়ার পর থেকেই এমপি লিটনকে নিজের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরে নেন তিনি। তার মাথায় আসে, লিটনকে চিরতরে সরিয়ে দিতে পারলে পরবর্তী নির্বাচনে তার এমপি হওয়া নিশ্চিত।

এ দুটি কারণেই মূলত এমপি লিটনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন কাদের খান। হত্যাকাণ্ডের দুই বছর আগে তিনি সিদ্ধান্ত নেন বলে পুলিশ তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ভাতিজাসহ কয়েকজনকে অস্ত্র চালানোতে প্রশিক্ষিত করে তুলেছিলেন তিনি। নিজের পরিকল্পনার কথা তিনি শুরুর দিকে কাউকেই জানাননি তিনি। বরং এজন্য সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শাহবাজ গ্রামে নিজের ড্রইংরুমে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন এমপি লিটন। তার বোন আফরোজা বারী বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা শহরের ব্রিজ রোড এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া কাদের খানের তিন ঘনিষ্ঠ সহযোগী আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, জাপা নেতা সাবেক এমপি কাদের খানের নির্দেশ ও পরিকল্পনায় লিটনকে হত্যা করা হয়েছে।

এমপি লিটন হত্যার পরিকল্পনাকারী কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খান এরপরই বগুড়ার বাসায় অভিযান চালিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) কাদের খানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের জেরার মুখে এমপি লিটন হত্যার সঙ্গে তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে স্বীকার করেন। কীভাবে এমপি লিটনকে হত্যা করা হয়, কারা কারা এই কিলিং মিশনে ছিল, অস্ত্র কীভাবে সরবরাহ করা হয়েছে; গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে এসব জানান কাদের খান।
এদিকে অস্ত্র মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মুখতারুল আলম জানান, কাদের খানের দেওয়া জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে তার সুন্দরগঞ্জ এলাকার বাসা থেকে মাটি খুড়ে একটি পিস্তলসহ গুলি উদ্ধার করা হয়। অস্ত্রটি এমপি লিটন হত্যার ঘটনায় ব্যবহার করা হয়েছিল বলে কাদের খান পুলিশের কাছে স্বীকার করে।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে দুটি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানা যায়। অস্ত্র মামলাটি তদন্তে শতভাগ প্রমাণিত হওয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ করে এ সপ্তাহেই চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।
/জেএইচ/

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বাবা-মেয়েসহ ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত
বাবা-মেয়েসহ ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে’
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে’
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের