শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়কের ছবি তোলায় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ-এর নির্দেশে সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়েছে তার কর্মীরা। এতে গুরুতর আহত হয়ে দুইদিন ধরে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন শাবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরদার আব্বাস আলী এবং সহ-সভাপতি সৈয়দ নবীউল আলম দিপু।
গত শনিবার বিকালে সিলেট নগরীর পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সদ্য এসএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করা এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে অন্যতম সমাজকর্ম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের মাহমুদুল হাসান রুদ্র এবং পরিসংখ্যান বিভাগের একই বর্ষের সাজ্জাদ রিয়াদ। ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকরা এসব নিপীড়কদের ছবি তোলায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। পরে সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ যৌন সন্ত্রাসীদের ছবি ডিলিট করতে সাংবাদিকদের বাধ্য করে।
ক্যাম্পাস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শনিবার বিকালে সদ্য এসএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করা ওই ছাত্রী তার ভাইয়ের সঙ্গে ক্যাম্পাসে বেড়াতে আসে। এ সময় পার্থের কর্মীরা ছেলেটিকে মারধর করে এবং ওই ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করে। এমনকি মুখে সিগারেটের ধোঁয়া ও চড় থাপ্পড় মেরে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। এছাড়া ক্যাম্পাসে আবার আসলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে শাবি প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী।
ছাত্রীর মামা রুবেল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বিষয়টি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা, শাবি প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সৈয়দ নবীউল আলম দিপু, সাধারণ সম্পাদক সরদার আব্বাস আলীসহ ক্যাম্পাসে কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিককে জানান। তিনি চিহ্নিতদের খুঁজে বের করার কথা বলেন। তাদের চিহ্নিত করা হলে সে অনুযায়ী প্রশাসনিকভাবে শাবি’র শরণাপন্ন হওয়ার কথাও বলেন তিনি।
যৌন নির্যাতন ও মারধরের ঘটনার বিষয়টি রুবেল আহমেদ জানিয়েছিল বলে বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন সৈয়দ নবীউল আলমসহ কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা। পরে তাদের সঙ্গে নিয়েই ক্যাম্পাসে নিপীড়কদের খোঁজা হয় বলে জানান দিপু।
রুবেল আহমেদ, ওই ছাত্রী এবং তার ভাইকে নিয়ে নিপীড়কদের খোঁজ করেন সাংবাদিকেরা। ক্যাম্পাসে অনেক খোঁজাখুঁজির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি সেন্টারে খোঁজ মিলে যৌন নিপীড়কদের। বিষয়টি জানার জন্য ডাকা হলে অভিযুক্তরা নিজেদের ছাত্রলীগ নেতা পার্থর কর্মী বলে পরিচয় দেয়। এ সময় তারা সাংবাদিকদের ঘেরাও করে রাখে এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেই সময় সভাপতি পার্থকে ফোনে বিষয়টি জানানো হয়। কিছুক্ষণ পরেই পার্থ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ঘটনাটি মীমাংসা করতে এ নিয়ে নিজের ‘কিছুই করার নেই’ বলে সাংবাদিকদের জানান শাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ। এমনকি সে জোরপূর্বক সাংবাদিকদের কাছ থেকে নিপীড়কদের ছবি ডিলিট করতে বাধ্য করে।
এ সময় সেখানে উপস্থিত তার গ্রুপের কর্মীদের উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের শুনিয়ে পার্থ বলেন, যে পত্রিকায় এসব ছবি আসবে তিনি সে পত্রিকার সাংবাদিককে দেখে নেওয়া হবে। তারপরই সাংবাদিকরা সেখান থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে চলে আসেন।
এদিনই সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ডেইলি অবজারভারের সিলেট প্রতিনিধি সরদার আব্বাস আলী এবং সহ-সভাপতি দৈনিক সকালের খবরের শাবি প্রতিনিধি সৈয়দ নবীউল আলম দিপু ফুডকোর্টে চা খেতে যান। এ সময় শাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থের নির্দেশে ১০-১৫ জন ক্যাডার দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। হামলাকারীদের মধ্যে ছিল ২০১৪-১৫ সেশনের লোকপ্রশাসন বিভাগের অনিরুদ্ধ দেব অমিয়, গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলাম রাকিব, ২০১৫-১৬ সেশনের পরিসংখ্যান বিভাগের সাজ্জাদ রিয়াদ, নৃবিজ্ঞান বিভাগের রাহাত সিদ্দিকী, সমাজকর্ম বিভাগের মাহমুদুল হাসান রুদ্র, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের সুমন সরকার জনি, রসায়ন বিভাগের মেহেদী হাসান স্বাধীন’সহ পার্থের ১০-১৫ জন কর্মী।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা আহত অবজারভারের সিলেট প্রতিনিধি সরদার আব্বাস আলী এবং সকালের খবরের শাবি প্রতিনিধি সৈয়দ নবীউল আলম দিপু প্রক্টর বরাবর আলাদাভাবে দুইটি লিখিত অভিযোগ করেন।
/এমপি/







