ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় বজরাপুর এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের তিন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের এডিসি নাজমুল ইসলাম এবং জেলা পুলিশের এসআই মহসিন আলী ও কনস্টেবল মুজিবুর রহমান আহত রয়েছেন। ওই আস্তানায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আহত তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রথমে কোটচাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের পরে যশোর নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, জঙ্গিদের ছোড়া বিস্ফোরকে পুলিশের দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। ভেতরে দুই জঙ্গি আত্মঘাতী হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।
শনিবার রাতে থেকে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বজরাপুরের ওই বাড়ি ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে সিটিটিসি ইউনিট রবিবার (৭ মে) ভোর থেকে বাড়িতে অভিযান চালায়।
ডিআইজি আরও জানান, বজরাপুরের পাশাপাশি সদর উপজেলার লেবুতলায়ও একটি পরিত্যক্ত জঙ্গি আস্তানা থেকে কিছু বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপি’র এডিসি মো. ইউসুফ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে আরও জানান, চাপাইনবাবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানায় আবু আলীকে খুঁজতে গিয়ে ঝিনাইদহে এই দুই আস্তানার খবর পাওয়া গেছে।
প্রসঙ্গত, ২২ এপ্রিল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামের ঠনঠনেপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় সিটিটিসি ইউনিটের সদস্যরা ‘অপারেশন সাউথ প’ চালায়। প্রায় ৪ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের অভিযানে ওই জঙ্গি আস্তানা থেকে বিস্ফোরক তৈরি রাসায়নিক ভর্তি ২০টি ড্রাম, একটি সেভেন পয়েন্ট সিক্স বোরের পিস্তল, একটা ম্যাগাজিন, সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পাঁচটি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়। বাড়ির ভেতর থেকে ১৫টি জিহাদি বইও উদ্ধার করা হয়েছে।
অপারেশন ‘সাউথ প’ (দক্ষিণে থাবা) সমাপ্ত ঘোষণার পর এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ জানান, বাড়িটিকে জঙ্গিদের বোমা তৈরির কারখানা বলা যেতে পারে। এই বাড়িতে তিন-চার জন জঙ্গি ছিল। তারা আগেই পালিয়ে গেছে। এই জঙ্গিদের সবাই জেএমবি ও নব্য জেএমবির সদস্য। এই বাড়িতে জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিভাগীয় পর্যায়ের লোকজন আসা যাওয়া করতো।
/এনএল/এসটি/
আরও পড়ুন: ঝিনাইদহে জঙ্গি আস্তানায় দুই জঙ্গি আত্মঘাতী








