ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের লেবুতলা গ্রামে ‘অপারেশন সাটল স্প্লিট’ শেষ হয়েছে। পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ অভিযান শেষে ঘটনাস্থলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, লেবুতলায় ওই বাড়িতে একটি পিস্তল, সাতটি গ্রেনেড, একটি বোমা ও তিন রাউন্ড গুলি পাওয়া গেছে। বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই আস্তানায় বেশ কিছু ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস পাওয়া গেছে যেগুলো দিয়ে শক্তিশালী বোমা তৈরি করা যেতো।
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় কুমড়াবাড়ীয়া ইউনিয়নের বজরাপুর এলাকার জঙ্গি আস্তানায় জঙ্গি বিরোধী অভিযান ‘অপারেশন সাটল স্প্লিট’ (Subtle Split) শেষ হয়েছে রবিবার রাতেই। তবে সোমবার (৮ মে) সকালে জেলার সদর উপজেলার লেবুতলা এই অভিযানের দ্বিতীয় অংশ শুরু হয়য়। এটাকেও অপারেশন সাটল স্প্লিটের অংশ বলা হয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে এই অভিযান শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
অভিযানে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ, এডিশনাল ডিআইজি হাবিবুর রহমান, ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান নেতৃত্ব দেন। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও জেলা পুলিশ এই অভিযানে অংশ নেয়। এ ছাড়া কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এডিসি আব্দুল মান্নান, এডিসি সাইফুল ইসলাম ও বোম ডিসপোজাল ইউনিটের প্রধান আবুল বাশার উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রবিবার লেবুতলায় শরাফত হোসেন নামের একজনের ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে পাওয়া আটটি বিস্ফোরকই আজ সোমবার নিষ্ক্রিয় করা হয়। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) সদস্যরা সেখান থেকে শরাফত হোসেনের (মৃত) দুই ছেলে শামীম (২২) ও হাসানকে (৩৫) আটক করেন।
লেবুতলা গ্রামের হায়দার আলী জানান, মৃত শরাফত আলী প্রায় ২০ বছর আগে সদর উপজেলার কামারকুন্ডু এলাকা থেকে লেবুতলায় এসে বসবাস শুরু করেন। প্রায় ১০ বছর আগে মারা যান তিনি। শরাফত হোসেনের বড় ছেলে হাসান রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। আর ছোট ছেলে শামীম ঝিনাইদহ পলিটেকনিকে পড়াশোনা করে। তিনি আরও বলেন, ‘শরাফত হোসেনের দুই ছেলেই নামাজ পড়ে। তাদের দুইজনকে কখনও কোনও আড্ডায় যেতে দেখিনি।’
জসিম উদ্দিন নামের অপর একজন বলেন, ‘শরাফত হোসেনের দুই ছেলে যে জঙ্গিবাদে জড়িত এটা পুলিশের অভিযান দেখেই টের পেলাম। এর আগে এমন কোনও কার্যক্রম দেখিনি। শরাফত হোসেনের ছোট ছেলে শামীম অনেক মেধাবী ছেলে। পড়ালেখায় সে অনেক ভালো। আর বাবা শরাফত মারা যাওয়ার পর বড় ছেলে হাসান রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসারের হাল ধরেন।’
এদিকে রবিবার (৭ মে) রাত ৯টার দিকে মহেশপুর থানায় প্রেস ব্রিফিংয়ে মহেশপুরের আস্তানায় অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন ডিআইজি দিদার আহমেদ। এসময় তিনি জানান, সেখানে দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে। দুই জঙ্গির একজনের নাম তুহিন। তার সম্পর্কে আর কোনও তথ্য এখনও জানা যায়নি। নিহত অন্য জঙ্গির পরিচয় জানা যায়নি। জঙ্গিদের লাশ এখনও আস্তানায় রয়েছে। সেগুলো উদ্ধারসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে। শনিবার (৬ মে) রাত থেকে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বজরাপুরের এই বাড়ি ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট রবিবার (৭ মে) ভোর থেকে বাড়িটিতে অভিযান চালায়।
দিদার আহমেদ বলেন, ‘মহেশপুরের ওই জঙ্গি আস্তানার বাড়ির মালিক জহুরুল ইসলাম ও তার ছেলে জসিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুইটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।’
/এফএস/
আরও পড়ুন-







