সিরাজগঞ্জের বেলকুচির সোহাগপুর হাঁটে আসা তাঁতীদের সদর পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে আটকে মারধর করে কাপড় কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে বেলকুচি পৌর মেয়র বেগম আশানুর বিশ্বাস ও সোহাগপুর হাঁটের ইজারাদার মো. মোন্নাফ মণ্ডলসহ শতাধিক তাঁতী জেলা প্রশাসকের কাছে উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। সিরাজগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও তাদের নিয়ন্ত্রিত নিউ মার্কেট হাট পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে তাঁতীদের এ অভিযোগ।
অভিযোগে বলা হয়, সিরাজগঞ্জ জেলা ও জেলার বাইরে থেকে শত শত তাঁতী প্রতি সপ্তাহের সোমবার শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা, ওড়না ও থ্রি-পিস নিয়ে বেলকুচির সোহাগপুর হাটে আসেন। সদর উপজেলার ছোনগাছা, পিপুলবাড়িয়া, পাইকোশা, বেজগাঁতি ও রায়গঞ্জের পাঙ্গাশিসহ ধানগড়া এবং কাজিপুর থেকে তাঁতীরা বেলকুচির হাঁটে আসেন। তাদের প্রায় সবাই দাদন ও লগ্নী নিয়ে এসব পণ্য উৎপাদন করে। জেলা শহরের কাজিপুর মোড়, সমাজ কল্যাণ মোড়, কাঠেরপুল, বাহিরগোলা, এম এ মতিন বাস টার্মিনাল ও পারভীন মোড়সহ গোশালা রেলগেট এলাকায় তাদের পথ রোধ করে মারধ করে। পরে তাদের উৎপাদিত পণ্য জেলা সদরের নিউ মার্কেটে বিক্রিতে করতে বাধ্য করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সদর পৌরসভা নিয়ন্ত্রণাধীন জেলা শহরের নিউ মার্কেটে কাপড়ের হাঁট বসে প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার। কিন্তু, দীর্ঘদিনেও ওই হাট জমে না উঠায় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কৌশলে হাটবার ‘সোমবার’ করেছে। ওই দিন তাঁতীরা নিউ মার্কেটে যেতে রাজি না হলে জোরপূর্বক তাদের মালামাল কেড়ে নিয়ে সদর পৌরসভা কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়। পৌর ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় তাঁতীদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। নিউ মার্কেট হাঁটে কাপড় বিক্রিতে বাধ্য করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ সোহাগপুর হাঁট ধংসের পাঁয়তারা চলছে।
এদিকে, অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সামনেই স্থানীয় সাংসদ প্রফেসর হাবিবে মিল্লাত মুন্না ও পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে মিমাংশা বৈঠকের আশ্বাস দেন। আবার এ ধরণের ঘটনা ঘটলে তাদের তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা বলেন, নিউ মার্কেট হাটটি ২৫/৩০ বছরের পুরনো। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার হাঁট বসলেও বর্তমানে তাঁতীরাদের সুবিধার্থে সপ্তাহে দু’দিন করা হয়েছে। বেলকুচির সোহাগপুর হাটে ইজারাদারের লোকজন প্রায়ই তাঁতীদের নির্যাতন করে। যারা এতদিন নির্যাতিত ছিলেন, তাদের পরামর্শে হাটের দিন পরিবর্তন করা হয়েছে। জেলা সদরের এ হাটটি বর্তমানে করমুক্ত। তাঁতীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুবিধার জন্য হাট পরিচালনা কমিটি ও পৌর কর্মচারীরা দিনরাত পরিশ্রম করছে। এখানে পণ্যের উপযুক্ত দাম পেয়ে তাঁতীরাও খুশী। এসব দেখে সোহাগপুর হাঁটের ইজারাদারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। স্থানীয় এমপি সাহেবও এ বিষয়ে আজই আমাকে বলেছে। আগামীতে এ সমস্যা নিয়ে মিমাংশা বৈঠক হবে।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: হিল উইমেন্স ফেডারেশনের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের বাধা







