মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে লিয়াকত আলী (৩৬) নামের এক ব্যক্তিকে শেকল পরিয়ে ১৬ বছর গৃহবন্দি করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তালাবদ্ধ ছোট্ট একটি টিনসেড ঘরে বছরের পর বছর অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে তার।
লিয়াকত আলী কমলগঞ্জের মুন্সীবাজার ইউনিয়নের বিক্রমকলস গ্রামের মৃত বারহাম আলীর ছেলে। ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘লিয়াকত আলীকে সুস্থ না করার পেছনে পরিবারের অবহেলাই দায়ী।’
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। কাউকে গৃহবন্দি বা শেকলবন্দি করা অমানবিক। আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
লিয়াকতদের কয়েকজন প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, লিয়াকতের আপন ভাইয়েরা মানসিক ভারসাম্যহীন সাজিয়ে, চিকিৎসা না করিয়ে তাকে একটি ঘরে গৃহবন্দি করে রেখেছেন। ১৬ বছর ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন লিয়াকত।’
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ওই ঘরের ভেতরেই আহার-নিদ্রা ও মল-মূত্র ত্যাগের কাজ সবই করতে হয় লিয়াকতকে। যদিও পরিবারের সদস্যরা তার কাছে প্রতিদিন খাবার পৌঁছে দেয়।
জানা গেছে, মৃত বারহাম আলী ও মৃত আমিরা বেগমের ছয় ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে লিয়াকত আলী পঞ্চম। ছয় ভাইয়ের মধ্যে তিন জন ব্যবসায়ী। দু’জন মধ্যপ্রাচ্যে চাকরি করেন।লিয়াকত ১৯৯৭ সালে মৌলভীবাজার টাউন সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে আলিম পাস করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, লিয়াকত ২০ বছর বয়সে কমলগঞ্জ উপজেলার কালাছড়া গ্রামে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছু দিনের মধ্যে স্ত্রী তাকে রেখে বাবার বাড়িতে ফিরে যান। এরপরই লিয়াকত মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
গৃহবন্দি লিয়াকত আলীর বড় ভাই স্থানীয় মুন্সীবাজারের ব্যবসায়ী আয়ুব আলী বলেন, ‘প্রায় ১৫-১৬ বছর থেকে সে অসুস্থ। তাকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে একাধিবার চিকিৎসা করানো হয়েছে। দু’জন চিকিৎসকের কাছে দীর্ঘদিন তাকে চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু কোনও সুফল না পাওয়ায় তার সুস্থ হওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছি আমরা।’ তিনি জানান, চিকিৎসা ব্যয় বহন করা সম্ভব না হওয়ায় তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা করানো যায়নি।
দুবাই প্রবাসী লিয়াকতের বড় ভাই জমসেদ আলী বলেন, ‘নিজের ভাইকে কখনও শেকল দিয়ে কিংবা গৃহবন্দি করে রাখতে চাইনি। কিন্তু ছাড়া পেলে সে মানুষের ওপর চড়াও হয়, কামড় দিয়ে জখম করে। কাপড় পরিয়ে দিলেও সে টেনে- ছিঁড়ে ফেলে। সেজন্য বাধ্য হয়েই তাকে এভাবে রাখা হয়েছে।’
/এনআই/এপিএইচ/








