সান্ধ্য কোর্স চালু ও বর্ধিত ফি কমানোর দাবিতে আন্দোলনে নামায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের করা মামলা এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি। বিভিন্ন সময় আশ্বাস দেওয়া হলেও সাড়ে তিন বছরেও তা করা হয়নি। ওই মামলায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মামলা প্রত্যাহরের দাবিতে রবিবার দুপুরে ক্যাম্পাসেবিক্ষোভ মিছিল ও সামবেশ করে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীরা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হয়ে মিছিল বের করে। ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে তারা আবার সেখানে এসে মিলিত হয় এবং সমাবেশ করে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মুনাফা তৈরির আস্তানায় পরিণত করার অপচেষ্টা চলছে। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে যারা ছাত্রদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করে, তাদের নামে মামলা হয়। যার প্রমাণ মেলে ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। সে দিন বাণিজ্যিক কোর্স বন্ধ করার দাবিতে আন্দোলনে নামায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও চারটি মামলা করা হয়। এ সময় বক্তারা আন্দোলনকারীদের ওপর দায়ের করা মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী রাবি শাখার সভাপতি প্রদীপ মার্ডির সঞ্চালনায় সামাবেশে বক্তব্য দেন ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তাফা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জিলানী শুভ, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল কবির, রাবি শাখা কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আব্দুল মাজিদ অন্তর প্রমুখ।
মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান বলেন, ‘ওরা (ছাত্রদের পক্ষে ছাত্রজোট) আমার সঙ্গে দেখা করে ১৪ জনের নাম দিয়েছে। কিন্তু রেজিস্ট্রারের অসুস্থতার কারণে এ বিষয়ে কিছু জানতে পারছি না। তিনি সুস্থ হলে মামলার অবস্থা জেনে কী করা যায়, সেটা দেখবো।’
প্রসঙ্গত, বর্ধিত ফি প্রত্যাহার ও সান্ধ্য কোর্স বাতিলের দাবিতে গত ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনে নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ওই সময় ছাত্রলীগ ও পুলিশ একযোগে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। ওই ঘটনায় বাম ছাত্র সংগঠনের ১৭ জনসহ অজ্ঞাতনামা দেড়শ’ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ। চলতি বছরের ৭ মে ৪৩ শিক্ষার্থীর নামে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ মে মামলার আসামিদের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: নিখোঁজের ২২ দিন পর ফিরলো উইজডম স্কুল অ্যান্ড কলেজের সেই ছাত্র








