‘মিথ্যা’ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেওয়া চিকিৎসকদের শাস্তি চান দিয়াজের বোন

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
৩১ জুলাই ২০১৭, ২২:৫৬আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৭, ২৩:১০

দিয়াজ ইরফান চৌধুরী ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ও সংগঠনটির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রথম ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রদানকারী চিকিৎসকদের শাস্তি দাবি করেছেন তার বড় বোন অ্যাডভোকেট জোবায়দা সারোয়ার নিপা। পুনঃময়নাতদন্ত রিপোর্টে দিয়াজের মৃত্যুকে ‘শ্বাসরোধজনিত হত্যামূলক’ উল্লেখ করার একদিনের মাথায় তিনি এ দাবি জানান।
জোবায়দা সারোয়ার নিপা বলেন, ‘আইনের শাসনকে বাধাগ্রস্ত করতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের যে সব চিকিৎসক মিথ্যা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দিয়েছেন আমি তাদের বিচার দাবি করছি।’ শুধু দিয়াজের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট নয়, এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মিথ্যা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘এর আগেও অনেক পরিবার অভিযোগ করেছেন চমেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা মিথ্যা রিপোর্ট প্রদান করেন। আল্লাহ আমাদের প্রতি সহায় ছিলেন, আমরাও সাহসের সঙ্গে মিথ্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলাম বলে আজ সত্য প্রমাণিত হয়েছে।’ ‘মিথ্যা’ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেওয়া চিকিৎসকদের শাস্তি চান দিয়াজের বোন
গত বছরের ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার নিজ বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরের দিন ২১ নভেম্বর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে তার প্রথম ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। মেডিক্যালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. জাহেদুল হাসান ময়নাতদন্ত করেন। রিপোর্টে সে ছাড়াও ওই বিভাগের আরও দুই চিকিৎসকের স্বাক্ষর রয়েছে।
শুধু চিকিৎসকরা নয়, যারা ওই চিকিৎসকদের মিথ্যা রিপোর্ট দিতে প্রভাবিত করেছিলেন তাদেরও বিচার দাবি করেছেন দিয়াজের বড় বোন।
নিপা বলেন, ‘যারা চিকিৎসকদের মিথ্যা রিপোর্ট দিতে প্রভাবিত করেছেন, দিয়াজকে খুন করার পর থেকে যারা এই হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বলে প্রচারণা চালিয়েছেন আমি তাদেরও শাস্তি দাবি করছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দিয়াজ হত্যার ঘটনায় আমরা ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছিলাম। ঘটনার পর কয়েকজনের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় খোঁজখবর নিলে তাদেরও সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছি। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের জায়গায় এদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’
এদিকে পুনঃময়নাতদন্ত রিপোর্টে দিয়াজের মৃত্যুকে শ্বাসরোধে হত্যা উল্লেখ করায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নিহতের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার শতভাগ বিশ্বাস ছিল যে দিয়াজ আত্মহত্যা করেনি। আল্লাহর অশেষ শুকরিয়ায় এখন সত্য প্রমাণিত হয়েছে।’ তিনি পুনঃময়নাতদন্ত রিপোর্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
দিয়াজের মা জাহেদা আমিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ একটি মহল মামলাটিকে শুরু থেকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কঠোর মনিটরিং থাকার কারণে তারা পুনঃময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রভাবিত করতে পারেনি। তাই আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি, তিনি যেন মামলাটিকে চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।’ ‘মিথ্যা’ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেওয়া চিকিৎসকদের শাস্তি চান দিয়াজের বোন
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার নিজ বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে প্রথম ময়নাতদন্ত হয়। ২৩ নভেম্বর পুলিশ জানায়, দিয়াজকে হত্যা করা হয়েছে এমন আলামত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তখন ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে দিয়াজের পরিবারসহ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি অংশ। তারা বলেন, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনের সঙ্গে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের কোনও মিল নেই। পরে বিষয়টিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী ছাত্রলীগ নেতা, সহকারী প্রক্টরসহ ১০ জনকে আসামি করে ২৪ নভেম্বর আদালতে মামলা দায়ের পুনঃময়নাতদন্তের আবেদন করে।
পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে গত ১০ ডিসেম্বর কবর থেকে দিয়াজের লাশ তুলে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়। দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের পর লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান চিকিৎসকরা। এ বছরের ১ জানুয়ারি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চিকিৎসক দল। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহামুদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি টিম দিয়াজের বাসা পরিদর্শন করেন। পরে প্রথম দফা তদন্তকারী দলের সঙ্গে বৈঠক করেন ওই চিকিৎসক দল। গত ৪ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সিনিয়র এএসপি হুমায়ুন কবিরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
রবিবার (৩০ জুলাই) সিআইডি কর্মকর্তা এএসপি হুমায়ুন কবির জানান, দিয়াজের পুনঃময়নাতদন্ত রিপোর্টে তার মৃত্যুকে শ্বাসরোধজনিত হত্যামূলক উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে দিয়াজকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বিষয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ক্যাম্পাসে মিছিল করে হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি অংশ। রবিবার রাতে তারা ক্যাম্পাসে মিছিল করে এ দাবি জানান।
মামলায় কোন ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিনিয়র এএসপি হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কোন প্রতিবেদন কী আসলো সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। আমরা ঘটনার সবদিক খতিয়ে দেখছি। সম্ভাব্য সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আমরা তদন্ত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’
/এআর/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী