আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নানা তৎপরতা সত্বেও সীমান্তে ইয়াবা পাচার থেমে নেই। প্রতি মাসে সীমান্ত দিয়ে হাজার কোটি টাকা মূল্যের ইয়াবার চালান প্রবেশ করছে বাংলাদেশে। চলে যাচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে। সেইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বসে নেই। তাদের হাতে ধরা পড়ছে একের পর এক ইয়াবার চালান। গত এক মাসে কক্সবাজারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২০ লাখ ৮৫ হাজার ১০৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৬২ কোটি ৫৫ লাখ ৩১ হাজার ৮০০ টাকা। এসময় ইয়াবা পাচারের অভিযোগে ২৪৭ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ১৫৫টি। পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কক্সবাজার জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সৌমেন মণ্ডল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সীমান্তে মাদক পাচারকারীরা এখন সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আমাদের লোকবল কম থাকায় অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। এরপরও আমরা থেমে নেই, চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত জুলাই মাসে ৪ হাজার ৭৪৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। ইয়াবার পাশাপাশি ৮ গ্রাম হেরোইন, ৫৩৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। মাদক পাচারের জড়িত থাকার অভিযোগে ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে ২৯টি।’
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, ‘ইয়াবাসহ মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। সীমান্তে বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে জেলা পুলিশ প্রতিনিয়ত মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। অভিযানের অংশ হিসেবে গত জুলাই মাসে ৪ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২৫শ’ লিটার দেশি তৈরি মদ, ১শ’ ক্যান বিয়ার, ১০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে ১২৬টি।’
কক্সবাজার র্যাব-৭ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর রুহুল আমিন বলেন, ‘শুধু মাদক নয়, সন্ত্রাসসহ নানা অপরাধ দমনে র্যা ব সদস্যরা প্রতিদিন অভিযান চালাচ্ছে। সড়ক ও সাগর পথে ইয়াবা প্রতিরোধে র্যা ব বিশেষ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। গত জুলাই মাসে র্যা ব সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ৩২ হাজার ৬০৮পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। আটক করা হয়েছে ৭ জনকে।’
কক্সবাজারের ৩৪ বিজিবি’র অধিনায়ক লে.কর্নেল মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘সীমান্ত নিরাপত্তায় বিজিবি’র সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি সন্ত্রাস, চোরাচালন ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধসহ নানা অপরাধ দমনে বিজিবি’র টহল অব্যাহত রয়েছে। এরপরও নানাভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশে প্রবেশের সময় ৬৯ হাজার ১৫৫ পিস ইয়াবা উদ্ধা করেছে বিজিবি। চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে ২০ জনকে।’
টেকনাফ ২নং বিজিবি’র উপ-অধিনায়ক লে.কর্নেল শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার বলেন, ‘সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টেসহ নাফ নদী ও সাগরপথে বিজিবি সদস্যদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ কারণে বিজিবি’র সদস্যরা সবচেয়ে বড় বড় চালানগুলো আটক করতে সক্ষম হয়েছে। গত এক মাসে ১৫ লাখ ৬৮ হাজার ৫৯৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় আটক করা হয়েছে ১৪ জনকে।’
এদিকে, ইয়াবা প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশ, সাগরে কোস্টগার্ড ও নৌ-বাহিনী কাজ করছে। তাদের জালেও আটকা পড়ছে একের পর এক ইয়াবার চালান। এরপরও থেমে নেই ইয়াবা পাচার। একের পর এক ইয়াবার চালান স্থল ও সমুদ্র পথে পাচার হয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। কিন্তু ইয়াবা পাচার বন্ধা না হওয়ায় ভাবিয়ে তুলেছে কক্সবাজার তথা সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত সচেতন মানুষদের। তাদের প্রশ্ন ? সীমান্তে ইয়াবা পাচার কি আদৌ বন্ধ হবে ?
/এআর/







