উপকূলীয় চরে খাদ্য সংকটে মরছে গবাদি পশু

আহাদ চৌধুরী তুহিন, ভোলা
০৫ আগস্ট ২০১৭, ০৭:৪৬আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৭, ০৯:০৬

 

উপকূলের চরে মহিষ। ছবি- প্রতিনিধি ভোলার উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন চরে লবণ পানি বৃদ্ধি, মিষ্টি পানি ও খাদ্য সংকট এবং বজ্রাঘাতে অবাধে মরছে গবাদি পশু। মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমনটি হচ্ছে বলে মনে করছেন গবাদি পশুর মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোলায় অর্থকরি সম্পদের মধ্যে মহিষ অন্যতম। এ খাত থেকে মালিকরা বছরে কোটি টাকা আয় করেন। মহিষের দুধ, দুধ থেকে তৈরি দই ও পনির পুষ্টি পূরণেও ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। লোকালয়ে ঘাসের অভাব থাকায় বিভিন্ন চরে মহিষ পালন করা হয়। এসব চারণভূমিতে রোদ, বৃষ্টি, ঝড় আর শীত উপেক্ষা করে বিভিন্ন দল বা বাথানে বিভক্ত হয়ে খোলা আকাশের নিচে চরে বেড়ায় মহিষ। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ সব চরে লোনা পানির পরিমাণ বাড়ছে। ফলে সেখানে মিষ্টি পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া মিষ্টি পানির অভাবে সেখানে প্রয়োজনীয় ঘাস জন্মাতে পারছে না। ফলে খাদ্য সংকটে চরের মহিষ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। এছাড়াও বজ্রাঘাতে প্রায়ই মারা যাচ্ছে এ অঞ্চলের মহিষসহ গবাদি পশু।

লোনা পানি বেড়ে ঘাস মরে গেছে। ছবি- প্রতিনিধি চরফ্যাশনের ঢালচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সালাম হাওলাদার বলেন, ‘ঘাস ও মিষ্টি পানির অভাব এবং বজ্রাঘাতে ঢালচরে গত ছয় মাসে শতাধিক মহিষসহ গবাদি পশু মারা গেছে।’

ভোলার উপকূলীয় চরে লোনা পানিতে চরছে মহিষ। ছবি- প্রতিনিধি চরফ্যাশনের কুকরি মুকরি ইউপি চেয়ারম্যান হাসেম মহাজন জানান, গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে শুধু বজ্রাঘাতেই শতাধিক গবাদিপশু মারা গেছে। অন্যদিকে জেলার মনপুরা উপজেলার বিচ্ছিন্ন উপ-দ্বীপ চরনিজামে মহিষ মালিকরা বাধ্য হয়ে মহিষকে পুকুরের পানি খাওয়াচ্ছেন। ফলে শত শত মহিষকে পুকুরের পানি খেতে দেওয়ায় পুকুরটি মানুষের ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে উঠছে। আর পুকুরের দূষিত পানি ব্যবহার করায় নানা রোগে আক্তান্ত হচ্ছেন সেখানের মানুষ।

মানুষের ব্যবহারের পানিতে মহিষ। ছবি- প্রতিনিধি প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় ৯১ হাজারেরও বেশি মহিষ আছে। যার বেশির ভাগই মিষ্টি পানি ও খাদ্য সংকটে নানা রোগে আক্রান্ত। এমন পরিস্থিতিতে চরাঞ্চলের চারণভূমিতে পুকুর কেটে মাটির কিল্লা তৈরি করে দেওয়ার দাবি জানালেও প্রাণিসম্পদ বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

মানুষের ব্যবহারের পানিতে গোসল করছে মহিষ। ছবি- প্রতিনিধি ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বলেন, ‘ভোলার উপকূলীয় চরগুলোতে মাটির কিল্লা তৈরির প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে কিল্লা নির্মাণ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (আইএফএডি)ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর সহযোগিতায় গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা উন্নত পদ্ধতিতে মহিষ পালন শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ভোলা সদরের চর চটকিমরায় এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে শতাধিক মহিষ রয়েছে। এছাড়াও তজুমদ্দিন, চরফ্যাশন ও মনপুরার চরে সংস্থাগুলোর প্রকল্পের আওতায় হাজার হাজার মহিষ আছে। প্রকল্পগুলো সম্প্রসারিত হলে সংস্থাগুলোর উদ্দেশ সফল হবে।’

/এসএমএ/এসএনএইচ/আপ-এনআই

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বাবা-মেয়েসহ ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত
বাবা-মেয়েসহ ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে’
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে’
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ