পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত ও ফেরি সঙ্কটের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দৌলতদিয়া ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় সিরিয়ালে আটকা পড়ে আছে কয়েকশ’ গরুবোঝাই ট্রাকসহ প্রায় হাজার খানেক যাহবাহন।
সোমবার (২৮ আগস্ট) সকাল থেকেই দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে গোয়ালন্দ পৌরসভা পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
প্রখর রোদ ও গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে কোরবানির গরু ছাগল। এর ফলে চরম বিপাকে পড়ছে ব্যবসায়ীরা।
ফেরি কর্তৃপক্ষ গরুবোঝাই ট্রাকগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে এক সিরিয়ালে পার করলেও ফেরি পারাপারে দ্বিগুণ সময় লাগায় দুর্ভোগ কমছে না। সময় মতো ফেরি পার হতে না পারায় গরু ব্যবসায়ীদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
গরুর ব্যাপারি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি কুষ্টিয়া থেকে ১৪টি গরু নিয়ে ঢাকার গাবতলী হাঁটে যাচ্ছেন, রবিবার রাত সাড়ে ১২টায় দৌলতদিয়া ঘাটে এসে আটকা পড়েছেন। এরমধ্যে প্রখর রোদে ও গরমে গরুগুলো অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কখন ফেরিতে উঠতে পারবে বুঝতে পারছেন না।
তিনি আর বলেন, ‘গতকাল দৌলতদিয়ায় সিরিয়ালে আটকে থেকে দুই ব্যবসায়ীর বড় সাইজের দু’টি গরু অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। এতে তাদের প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাই আমিও গরুগুলো নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।
চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকার বাড্ডাগামী গরু বোঝাই ট্রাক চালক মো. সাবুদ বলেন, আমার ট্রাকে ২০টি গরু রয়েছে। যার একেকটির দাম ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা। এই গরুগুলো কোনও দিন এতো গরম সহ্য করেনি। তাই অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিরিয়ালে আটকে থেকে চরম ভোগান্তি পেহাতে হচ্ছে পরিবহনের চালক এবং যাত্রীদের। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
গরুর ব্যাপারি বাচ্চু সেখ বলেন, ‘২৬টি বড় আকারের গরু নিয়ে ঢাকার আফতাব নগরের উদ্দেশে রওনা হয়েছি। অনেক টাকা বিনোয়োগ করেছি। সময় মত পৌঁছাতে না পারলে ব্যবসায় লোকসান হবে।
বরিশাল থেকে ঢাকাগামী সাকুরা পরিবহনের (ঢাকা মেট্টো ব- ৫৪৬৩) সুপারভাইজার মো. গোলাম সরোয়ার বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরির আশায় বসে আছি। কখন নদী পার হবো বুঝতে পারছি না। ওদিকে গাবতলী বাস টার্মিনালে যাত্রীরা অপেক্ষা করছে। বাসের সিডিউল বিপর্যয় হচ্ছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরির সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ঘাটে গরুবোঝাই প্রচুর ট্রাক জমা হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রবাহী পরিবহনের সংখ্যাও অনেক। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৫টি ফেরি চলাচল করছে। আরেকটি রো রো ফেরি এ বহরে সংযুক্ত হবে। গরুবোঝাই ট্রাকগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে এক সিরিয়ালে পার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্বাভাবিক সময়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি পার হতে সময় লাগে আধা ঘণ্টা। কিন্তু পদ্মার প্রবল স্রোতের কারণে এখন একেকটি ফেরি পার হতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগছে। সময় বেশি লাগায় ফেরির ট্রিপও কমে যাচ্ছে। এছাড়া, রুটে ফেরি সঙ্কট থাকায় সব মিলিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মৃদুল রঞ্জণ জানান, গরুবোঝাই ট্রাকগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে এক সিরিয়ালে পারাপার করা হচ্ছে।যানবাহনের শৃঙ্ক্ষলা বজায় রাখতে পুলিশ কাজ করছে।
আরও পড়তে পারেন: অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে নোয়াখালী থেকে গ্রেফতার








