নরসিংদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে ও সড়কের পাশে অস্থায়ী পশুর হাট বসিয়েছেন ইজারাদাররা। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটাসহ যানজট ও পশুর বর্জ্যে পরিবেশগত বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় জেলা প্রশাসন বলছে সরকারি নির্দেশনা না মেনে গরুর হাট বসিয়ে থাকলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পলাশ উপজেলার তালতলী বাজারে গিয়ে পশু বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাঁচদোনা থেকে চরসিন্দুর পর্যন্ত সড়কের তালতলী বাজারে অস্থায়ী পশুর হাট বসানো হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এই বাজারে বিক্রির জন্য গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া আসতে থাকে। টানা রাত ৯টা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। পশুর হাটের কারণে সৃষ্ট যানজটে এই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।
এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পলাশ উপজেলার অস্থায়ী পশুর হাটের তালিকা অনুয়ায়ী ডাঙ্গা বাজারের নামে ইজারা নিয়ে ডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, সাধুর বাজারের নামে ইজারা নিয়ে পারুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, ঘোড়াশাল পৌর এলাকার পূবালী বাজারের নামে পূবালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ী পশুর হাট বসিয়েছেন ইজারাদাররা। এসব বাজারের ইজারাদারগণ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রেখে ছুটি দিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলের বাঁশগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, জঙ্গী শিবপুর এলাকার সৈয়দপুর সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে এবং বেলাব উপজেলার পোড়াদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বসেছে অস্থায়ী পশুর হাট।
জেলা প্রশাসকের দেওয়া পশুর হাটের অনুমতিপত্রের শর্তে ‘ক’ ও ‘খ’ ক্রমিকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠে ও সড়কের পাশে অস্থায়ী পশুর হাট বসানো যাবে না। কিন্তু চিঠির এই নিয়ম শুধু কাগজেই রয়েছে বাস্তবে এর উল্টো চিত্র। পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান জানান, ইজারাদাররা ডাঙ্গা বাজারে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর ইজারা নিয়ে আমাদের স্কুলে পাঠদান চলাকালীন সময়েই হাট বসিয়েছেন। বিষয়টি বিদ্যালেয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি।
ডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালানা কমিটির সভাপতি আজাহার খন্দকার জানান, বিদ্যালয়ের মাঠে পশুর হাট না বসানোর জন্য অনুরোধ করলেও ইজারাদাররা জোর করে মাঠে খুঁটি গেড়ে হাট বসিয়েছেন। তাদের নিষেধ করেও কোনও কাজ হয়নি।
ডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারাদার জামাল হাসান জানান, এই বিদ্যালয়ের মাঠে আজ থেকে ১৭ বছর ধরে কোরবানির হাট বসছে। এটা সবার জানা আছে। আমিই তো প্রায় ৯ বছর ধরে এখানে ইজারা নিয়ে হাট বসাচ্ছি।
পলাশ উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর বিষয়ে পলাশ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম ফজলুল হক জানান, বিদ্যালয়ের মাঠে পশুর হাটের বিষয়টি আমি শুনেছি। বিদ্যালয়ের মাঠে পশুর হাট বন্ধে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ডেকেছি তারা অভিযোগ দিলে আমরা পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এ ব্যাপারে নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেওয়া আছে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে অস্থায়ী পশুর হাঁট বসানো যাবে না। পাশাপাশি বিভিন্ন সড়কের নির্ধারিত দূরত্বে হাঁট বসানোর জন্য চিঠিতে স্পস্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি বা ইজারাদার সেই আইন অমান্য করে তাহলে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পরামর্শ করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়তে পারেন: আবর্জনা পরিণত হবে সম্পদে








