বগুড়ার শাজাহানপুরে ‘পুলিশের মারধরে’ আশেকপুর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাসুদুল হক পিন্টুর (৪৮) মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের নির্দেশে থানা মামলা নিলেও তা তুলে নিতে বাদী ও পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঠিকমতো তদন্ত করছে না বলে অভিযোগ করছে মৃত নেতার পরিবার।
তবে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকতার হোসেন বলেন, ‘তদন্ত চলছে। এখনও উল্লেখ করার মতো কিছু পাওয়া যায়নি।’ অন্যদিকে, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হৃদরোগে পিন্টুর মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তার শরীরে মারধরের কোনও চিহ্ন ছিল না। তাই এ মামলার ফাইনাল রিপোর্ট হবে।’
নিহত পিন্টুর স্ত্রী খায়রুন্নেছা অভিযোগ করেন, তার স্বামীর সঙ্গে প্রতিপক্ষ মিল্টন ও নিউটনদের পুকুর ও জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলে আসছে। এ নিয়ে একাধিক মামলাও রয়েছে। এ বিরোধের জের ধরে মিল্টন গত ১৯ আগস্ট শাজাহানপুর থানায় দুই ভাইসহ পিন্টুর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন। গত ২২ আগস্ট বেলা পৌনে ৩টার দিকে কৈগাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনিসুর রহমানসহ ৪ পুলিশ সদস্য বাড়িতে ঢুকে পিন্টুকে মারধর করেন। পরে তারাই গুরুতর আহত পিন্টুকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশি পাহারায় লাশ দাফন করা হয়।
শাজাহানপুর থানা মামলা না নেওয়া নিহতের স্ত্রী খায়রুন্নেছা গত ২৮ আগস্ট বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার পুলিশসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরদিন বিচারক আবু রায়হান শাজাহানপুর থানার ওসিকে মামলাটি ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রেকর্ড করে আদালতকে অবহিত এবং পিবিআইর ইন্সপেক্টরের ওপরের পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করতে নির্দেশ দেন। শাজাহানপুর থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পরপরই মামলা রেকর্ড করে নথি পিবিআইকে দেওয়া হয়েছে।
নিহতের ভাই ওবায়দুল হক টুটুল অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ সত্বেও পিবিআই গত কয়েক দিনে তদন্ত করেনি। তদন্ত কর্মকর্তা শনিবার দুপুর পর্যন্ত বাদীর সঙ্গে কথা বলেননি। আসামিরা ঘুরে বেড়ালেও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। টুটুল আরও বলেন, আসামি চার পুলিশ ও অন্যরা বহাল তবিয়তে আছেন। মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। তার ধারণা, পুলিশ আসামি হওয়ায় পিবিআই তদন্তে অবহেলা করছে।
পিবিআই বগুড়া অফিসের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকতার হোসেন জানান, গত ৩১ আগস্ট মামলার নথি পাওয়ার পর তারা তদন্ত শুরু করেছেন। তবে শনিবার দুপুর পর্যন্ত উল্লেখ করার মতো কিছু পাননি। বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, এজাহারে নাম আসা ইন্সপেক্টর আনিসুর রহমানসহ চার পুলিশকে ক্লোজ করা হয়নি। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘পিন্টু হৃদরোগে মারা গেছেন এবং তার শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই। তদন্ত কর্মকর্তা শিগগিরই মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেবেন।’







