সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের কালনী নদীতে সিলেট বিভাগের বৃহত্তম নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফসলহারা হাওরবাসীর মনোবল ফিরিয়ে আনা ও চিত্তবিনোদনের জন্য নৌকাবাইচের আয়োজন করে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম স্মৃতি ও গবেষণা পরিষদ।
নৌকাবাইচে সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, বাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও সিলেটসহ হাওরবেষ্টিত জেলার অর্ধশত নৌকা অংশ নেয়।
রবিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১টায় দিরাই ও চাঁনপুর গ্রামের ভাসমান মঞ্চে নৌকাবাইচের উদ্বোধন করেন বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম স্মৃতি ও গবেষণা পরিষদের নেতারা। এক কিলোমিটার দীর্ঘ নৌকাবাইচে জলতরঙ্গ, সোনারতরী, পবণকাঠের তরী, মেঘনা নির্জন সাধু, শিব সংঘ সোনার তরী, বাঘহাতা, হীরার তরী, ময়ুরপঙ্খী, জয়কালাচাঁন, কালীচরণ, বাঘজোড়া, বাঘাতরী, বাঘাচাঁন বিভিন্ন বাহারি নামের নৌকা অংশগ্রহণ করে।
কালনী নদীর তীরবর্তী চন্ডীপুর গ্রাম থেকে নৌকাবাইচ শুরু হয়ে শেষ হয় চাঁনপুর গ্রামের ভাসমান মঞ্চে।
পবন কাঠের তরী নৌকার দলনেতা দিরাইয়ের ভাটিপাড়া ইউনিয়নের বিনোদ বিহারী দাস বলেন, ‘অকাল বন্যায় ফসলডুবির পর মানুষের মনে কোনও আনন্দ নেই। দীর্ঘ ৭ মাস যাবৎ হাওরবাসী দুঃখে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। ভাটি অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ আশাহত মানুষের মনে আনন্দের খোরাক জোগাবে। তাই শত কষ্টের মধ্যে ৪০জন মাল্লা নিয়ে নৌকাবাইচে আইছি।’
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘাতরী নৌকার প্রধান মাল্লা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ পর্যন্ত তিনি ও তার দল শতাধিক নৌকাবাইচে অংশ নিয়েছে। কিন্তু দিরাইয়ের নৌকাবাইচ সুশৃঙ্খল ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়। তাই এখানের নৌকাবাইচে মাল্লারা খোল করতালের মুখরিত আওয়াজে বিপুল উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেয়।’
দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট অভিরাম তালুকদার বলেন, ‘হাওরবেষ্টিত ৬টি জেলা থেকে নৌকাবাইচে অংশ নিতে মাঝি মাল্লাসহ দৌড়ের নাও এসেছে। কালনীর তীরে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ নৌকাবাইচ উপভোগ করছেন।’
কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার গুরই গ্রাম থেকে বাঘহাতা নৌকার মালিক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘নৌকাবাইচে এলে সব নৌকাওয়ালাদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ হয়। এতে মনের ভাব বিনিময় হয়। ভাটি এলাকার অন্যতম বিনোদন নৌকাবাইচ। এটি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। গ্রাম বাংলার আবহমান ঐতিহ্য নৌকাবাইচ।’
দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সুহেল আহমদ বলেন, ‘বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের স্মৃতিবিজড়িত কালনী নদীতে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়েছে। এটি এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে প্রতিবছর আয়োজন করা হবে। নৌকাবাইচে বিজয়ীকে পুরস্কার হিসেবে সোনার নৌকা দেওয়া হয়। এছাড়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় রঙিন টেলিভিশন।








