বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার জিয়ানগর মণ্ডলপাড়ার নবম শ্রেণির ছাত্রী রোজিফা আকতার সাথীর (১৫) আত্মহননে প্ররোচনা মামলার আসামি মীর আমিনুর রহমান ও তার ছেলে হুজাইফাতুল ইয়ামিন বৃহস্পতিবার দুপুরে চতুর্থ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে। বিচারক আবদুল্লাহ আল মামুন আগামী ১৫ অক্টোবর এ ব্যাপারে শুনানির দিন ধার্য করেছেন। তাদের আত্মসমর্পণে সাথীর পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক দাবি করেছেন, জিয়ানগর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম তালুকদার আসামি ও ওয়াকিটকি ছিনতাই, তাদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা এবং পুলিশকে মারধরের ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন। শিগগিরই তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। তবে জিয়ানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম পুলিশের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার মধ্যস্থতায় আসামিরা আত্মসমর্পণ করেছে।
জিয়ানগর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর মেয়ে সাথী জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। স্কুল ও কোচিংয়ে যাতায়াতের পথে ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর আমিনুর রহমানের ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী হুজাইফাতুল ইয়ামিন তাকে উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান ও আমিনুরের কাছে নালিশ করা হলেও তারা ব্যবস্থা নেননি। সর্বশেষ গত ৮ অক্টোবর কোচিং থেকে বের হয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে ইয়ামিন সাথীর হাত ও ওড়না ধরে টানাটানি করে। এতে সাথী স্কুল না গিয়ে দুপুরে বাড়ি ফিরে আত্মহত্যা করে।
ওইদিন সন্ধ্যায় সাথীর বাবা গোলাম রব্বানী দুপচাঁচিয়া থানায় ইয়ামিন ও তার বাবা আমিনুরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। রাতে পুলিশ বজরাপুকুর এলাকা থেকে আমিনুর রহমানকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার আত্মীয় স্বজন ও গ্রামবাসীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে এসআই আবদুর রহিমের কাছ থেকে তার ওয়াকিটকি এবং আসামি ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় পুলিশ থানায় ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। এ মামলায় পুলিশ বুধবার বিকাল পর্যন্ত ২৭ জনকে গ্রেফতার করে।
দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক জানান, পুলিশের তৎপরতার মুখে ইয়ামিন ও আমিনুর রহমান বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়ার চতুর্থ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। বিচারক তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালত আগামী ১৫ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করেন।
ওসি আরও জানান, সাথী আত্মহত্যার পরবর্তী সব ঘটনার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম দায়ী। শিগগিরই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করায় সাথীর বাবা গোলাম রব্বানী স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, আদালত যেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেন। তাদের মতো বখাটের কারণে আর যেন কোনও মা-বাবার বুক খালি না হয়।








