রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক শ্রেণির দুই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও ফল প্রকাশ করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলপ্রকাশে এমন ধীরগতির কারণে স্বচ্ছ মূল্যায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এ বছর ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় ফলপ্রকাশে দেরি হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর সূত্রে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রথম দিন অনুষ্ঠিত হয়েছে কলা (এ ইউনিট) ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের (ই ইউনিট) পরীক্ষা। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অনুষদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে প্রথমদিন অনুষ্ঠিত ‘এ’ ও ‘ই’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও ফলপ্রকাশ করা হয়নি।
এর মধ্যে গত শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার দুই দিন পর আজ রবিবার (২৯ অক্টোবর) তার ফলপ্রকাশ করা হয়। এছাড়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাগুলোর ফল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন বা পরের দিনেই প্রকাশ করা হয়েছে। অন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও তিন-চার দিনের মধ্যেই ফলপ্রকাশ হয়ে থাকে। তবে রাবিতে প্রথম দিনের দুই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল সাত দিনেও প্রকাশ হয়নি।
ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কয়েকজনের পরীক্ষার্থীর অভিভাবকের সঙ্গে কথা বললে তারা অভিযোগ করেন, দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দ্রুত পরীক্ষার প্রকাশ করলেও এ ক্ষেত্রে সময় নিচ্ছে রাবি। এ কারণে তারা উত্তরপত্রের স্বচ্ছ মূল্যায়ন নিয়ে সংশয় জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, ‘আমার ছেলে এবার রাবিতে পরীক্ষা দিয়েছে। এখনও ফল না হওয়ায় খুবই চিন্তায় আছি। অথচ পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরে পরীক্ষা হলেও ফলপ্রকাশ হয়ে গেছে।’
ভর্তিচ্ছু এক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার পর এমনিতেই এক ধরনের টেনশন কাজ করে। তারওপর এতদিনেও ফল না হওয়ায় আর চাপ নিতে পারছি না।’
ফলপ্রকাশে দেরি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফয়জার রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উত্তরপত্রগুলো ওএমআর মেশিনে স্ক্যান করতে হয়। এবার পরীক্ষার্থী বেশি হওয়ায় ফলপ্রকাশে সময় লাগছে।’
আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্যা বলেন, ‘ফল তৈরির কার্যক্রম চলছে। ৩০ অক্টোবরের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি ইউনিটের ফলপ্রকাশ করা হবে।’
রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফলপ্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে। খুব শিগগিরই ফলপ্রকাশ করা হবে।’







