মানিকগঞ্জের শিবালয়ে শীলপাড়া সার্বজনীন মন্দির ভাঙচুর ও অপসারণের ঘটনায় ছয় জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। সোমবার দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন শিবালয় থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, আব্দুর রহিম খান দীর্ঘদিন ধরে ক্রয় সূত্রে ওই জমির মালিকানা দাবি করছে আসছেন। এ বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার সমাধানের চেষ্টাও করা হয়েছে। সোমবার ভোরে আব্দুর রহিম খানের লোকজন ওই মন্দিরের মালামাল ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ট্রাকসহ মালামাল জব্দ করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও শিবালয় উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম খান, তার ভাগ্নে শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলাল উদ্দিন আলালসহ আট জনের নাম উল্লেখ্যসহ অজ্ঞাত আরও ৫০/৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ছয় জনকে আটক করেছে পুলিশ।আব্দুর রহিম খানসহ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
আটক ছয় জন হলেন, শিবালয় এলাকার আফছার উদ্দিন (৫০), একই উপজেলার ষাইটঘর তেওতা গ্রামের লিটন নাথ (৩৫), দাসকান্দি গ্রামের মোমিন শেখ (৪০), ধুতরা বাড়ি গ্রামের সেন্টু শেখ (৩৮), জেলার ঘিওর উপজেলার সাদেকুল ইসলাম (৩২), রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার মাসুদ রানা (৪০)।তাদের মধ্যে মমিন শেখ নামের এক ব্যক্তির ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
শিবালয় শীলপাড়া সার্বজনীন মন্দির কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সূর্য শীল অভিযোগ করে বলেন,‘জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রহিম খানের নির্দেশে ভোর রাতে তার ভাগ্নে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলালউদ্দীনসহ ৫০/৬০ জন লোক মন্দির ভাঙচুর করেছে। এসময় তারা মন্দিরের মালামাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তারা এর আগেও বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়ের প্রতিমাসহ মন্দির ভাঙচুর করেছে।’
তবে জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রহিম খান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। আমাকে হেয় করার জন্য আমার নাম দিয়েছে। এ ঘটনার আগে থেকেই আমি ঢাকায় আছি।’
তিনি সূর্য্য শীলকে দায়ী করে বলেন, ‘মন্দিরের নামে তারা আমার কেনা জায়গা দখলের পায়তারা করছে। বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় এমপিসহ প্রশাসন অবগত আছে।’
এদিকে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হাসান জানান, ‘মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় শিবালয় থানায় একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ছয় জনকে আটক করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মন্দিরের মালামালসহ ট্রাকটি জব্দ করেছে।
অন্যদিকে মন্দির অপসারণের ঘটনায় মানিকগঞ্জ-১ আসনের এমপি এএম নাঈমুর রহমান দূর্জয়, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, শিবালয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা সংদদের কমান্ডার রেজাউর রহমান খান জানু নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলত শাস্তির দাবি জানান।
আরও পড়ুন: ১৪ মাস পর দুই কিশোরকে ফেরত দিয়েছে ভারত








