জঙ্গিবাদ নতুন কিছু নয় উল্লেখ করে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন,‘এর বীজ ’৭১ সালেরও আগেই রোপিত হয়েছে। আমরা যখন পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি, তখনও একটা গোষ্ঠী ছিল যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা, রাজনীতি ও নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করতে চাইতো।’ শনিবার সকাল ১১টায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি স্টেডিয়ামে আয়োজিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে তিন দিনব্যাপী প্রথম ‘উত্তরবঙ্গ সাংস্কৃতিক উৎসবে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন,‘তারা কিন্তু স্বাধীনতার ও দেশের মানুষের পক্ষে ছিল না। তারা প্রকাশ্যে আমাদের বিরোধীতা করেছে। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে সাহায্য করেছে। পরবর্তীতে তারাই আমাদের জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যা করেছে। ওই একই গোষ্ঠী আবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।’
ওই গোষ্ঠী আমাদের সন্তানদের ভুল বুঝিয়ে বিপথগামী করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন,‘আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কারণ ওই একই গোষ্ঠী বাংলা ভাইয়ের জন্ম দিয়েছে। দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালিয়েছে। এখন দেশে জঙ্গিবাদের জন্ম দিচ্ছে। হলি আর্টিজানের সেই ভয়াবহতা আজও আমাদের হৃদয়ে দাগ কেটে আছে। তাই নতুন প্রজন্মকে পড়ালেখার পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে।’
দেশে এখন পড়ালেখার নামে ‘জিপিএ ৫’ নির্যাতন চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন,‘আমরা পড়ালেখার নামে সন্তানদের গলাটিপে ওদের অস্থি-মজ্জা শেষ করে দিচ্ছি। মানবিক মূল্যবোধ জন্ম না নিলে কোনও সন্তানই তাদের বাবা-মা অথবা স্বজনদের প্রতি সদয় হবে না।
তিনি বলেন,‘অর্থ উপার্জন এক জিনিস আর লেখাপড়া করে মানুষ হওয়া অন্য জিনিস।’ সন্তানদের বেশি বেশি করে সংস্কৃতি চর্চায় উদ্বুদ্ধ করে তাদের মূল্যবোধকে জাগ্রত করার জন্য তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।
ধরিত্রী বাংলাদেশের আয়োজনে প্রথম উত্তরবঙ্গ সাংস্কৃতিক উৎসবে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. অজয় রায়, ধরিত্রী বাংলাদেশ এর সম্পাদক অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ, আণবিক শক্তি কমিশনের সাবেক পরিচালক ফায়জুর রহমান, আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হক বাবুল, সদস্য সচিব ও পাঁচবিবি পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জয়পুরহাট সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সামছুল আলম দুদু।
তিন দিনের এ সাংস্কৃতিক উৎসবে উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে লোকগীতি, পল্লীগীতি, ভাওয়াইয়া, গম্ভীরা, কবিগান, ভাটিয়ালিসহ নানা ধরণের সঙ্গীত এবং ব্রতচারী নৃত্য, আদিবাসী নৃত্য, নাটক ও যাত্রাপালার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়াও ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে সংস্কৃতি’ বিষয়ক সেমিনার ও ‘সংস্কৃতির আলো’ বিষয়ক আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে দেশের বরেণ্য ব্যক্তিসহ ১৬ জেলার প্রতিনিধিরা অংশ নিবেন।
আরও পড়ুন: সোনাগাজীতে ঘূর্ণিঝড়ে নিঃস্ব পরিবারগুলো এখনো কোনও সহযোগীতা পায়নি








