কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) বীজ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে জমি প্রস্তুত করার পরও বীজ না পেয়ে হতাশ জেলার গম চাষিরা। এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগ থেকে কোনও পরামর্শও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
বিএডিসি ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, মহামারী আকারে ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কুষ্টিয়াসহ দেশের আট জেলার কৃষকদের গম চাষ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে বিএডিসির বীজ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার বড়ুরা গ্রামের গম চাষি লুৎফর শেখ বলেন, ‘গতবার তিন বিঘা জমিতে গমের আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছিলাম। এবারও গমের আবাদ করবো বলে জমি প্রস্তুত করে বীজ কিনতে এসেছি। কিন্তু বীজ পাইনি। এখন কী করা উচিত, তা বুঝতে পারছি না।’
পলাশ আলী নামে অন্য এক চাষি বলেন, ‘গমের আবাদের বিষয়ে আমাদের কোনও পরামর্শও দেয়নি কৃষি বিভাগ। এদিকে বিএডিসির বীজ না পেয়ে বিপাকে পড়েছি। বিভিন্ন কোম্পানির বীজ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এর দাম অনেক বেশি।’
বিএডিসির উপ-পরিচালক (বীজ ও বিপনন) একেএম কামরুজ্জামান জানান, কুষ্টিয়া অঞ্চলে এবার গম বীজের বরাদ্দ না থাকায় কৃষক এবং ডিলারদের মাঝে বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে না। এছাড়া এবার কৃষি বিভাগ থেকেও গম উৎপাদনের কোনও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি।
বিএডিসির ডিলার সাগর আহমেদ জানান, বিএডিসি বীজ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় চাষিরা বীজ নিতে এসে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। গম চাষের ব্যাপারে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কোনও পরামর্শ নেই বলে তিনিও অভিযোগ করেন।
কুষ্টিয়া বীজ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফখরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘চাষি পর্যায়ে গম বীজের ব্যাপক চাহিদা আছে। প্রতিদিন গমের বীজ কিনতে চাষিরা দোকানে ভিড় করছেন। কিন্তু বিএডিসি গমের বীজ বিতরণ না করায় আমরা চাষিদের বীজ দিতে পারছি না।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ দেবনাথ জানান, ২০১৫ সালে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বেশ কিছু জেলায় গমে ব্লাস্ট রোগ শনাক্ত হয়। এ রোগ যাতে মহামারী আকারে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য কৃষি বিভাগ থেকে গম চাষে বিরত থাকতে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে, বারি ২৬ জাতের গম চাষ না করার কঠোর নির্দেশনা ছিল। পরের বছর বীজ শোধন করে বপনের নির্দেশনা দেওয়া হলেও কিছু জমিতে পুনরায় এ রোগের সংক্রমণ দেখা দেয়।
তিনি আরও জানান, গত বছর কুষ্টিয়ায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছিল, ফলনও ছিল খুব ভালো। তবে কৃষি বিভাগের নির্দেশনা হলো, পর পর তিন মৌসুমে গম চাষ কর যাবে না। তাই এবারও গম চাষের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) ড. হায়াত মাহমুদ বলেন, ‘যারা গমের আবাদ করবেন, তাদের বীজ শোধন করে আবাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে বারি ২৬ জাতসহ যেসব গমে ব্লাস্টের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে, সেইসব জাতের গমের আবাদ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তবে বারি-২৮, ২৯ ও ৩০ জাতের গম আবাদে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে চাষিদের। এসব জাতের গমে ব্লাস্টের সংক্রমণ নেই।’








