ভুরুঙ্গামারী থানার ওসির অনিয়মের অভিযোগের বিভাগীয় তদন্ত শুরু

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
০৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৯:৫২আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১০:৫৫

কুড়িগ্রাম কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাপস চন্দ্র পন্ডিতের বিরুদ্ধে গ্রেফতার বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তাপস চন্দ্র পন্ডিত ভুরুঙ্গামারী থানায় যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও গ্রেফতার বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- গত ১৫ আগস্ট উপজেলার ইসলামপুর থেকে চারটি ভারতীয় গরু আটক করে গোপনে বিক্রি করে দেওয়া, ১৮ সেপ্টেম্বর মাদক ও জুয়ার আসর থেকে সাত জনকে আটক করে এক লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া, গত ২৫ সেপ্টেম্বর মাদক ও জুয়া প্রতিরোধের নামে আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের তিন যুবককে আটক করে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে ছেড়ে দেওয়া, উত্তর তিলাইয়ের আবুল হোসেনের ছেলে রফিকুলের মোটর সাইকেলের টুলবক্সে দুই পিচ ইয়াবা দিয়ে তাকে আটক করে মামলা দেওয়া ও পরে ২২ হাজার টাকা নিয়ে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া।

এছাড়াও ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাক্তিকে চাঁদাবাজির মামলায় হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় টাকার বিনিময়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিটি মামলার জন্য ওসি তাপস চন্দ্র পন্ডিতকে পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। টাকা দিলে তদন্ত ছাড়াই দ্রুত মামলা রেকর্ড হয়ে যায়, মামলা ছাড়াই অসৎ উদ্দেশে সম্মানীত ব্যক্তিদের হেনস্তা করা হয়।

জানা গেছে, ওসির কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে তার অপসারণের দাবিতে উপজেলার সাত ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী, উপজেলা যুবলীগের নেতাকর্মী, শিক্ষক-অধ্যাপক, ব্যবসায়ী, ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলসহ ৫১ জন ব্যক্তি একটি অভিযোগপত্র মহাপুলিশ পরিদর্শক, ডিআইজি-রংপুর রেঞ্জ ও পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৭ নভেম্বর কুড়িগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম ভুরুঙ্গামারী থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযোগকারীদের বক্তব্য শোনেন। এছাড়া উপজেলার ছয় ইউপি চেয়ারম্যান কুড়িগ্রামে উপস্থিত হয়ে তাদের সাক্ষ্য দেন।

এ ব্যাপারে চর ভুরুঙ্গামারী ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক, পাইকেরছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ও সোনাহাট ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী মোল্লা বলেন, ‘ওসির অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকাবাসী। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে জানতে ওসি তাপস চন্দ্র পন্ডিতের মোবাইল ফোনে একাধিকবার  ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অভিযোগকারীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। শিগগিরই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’

আরও পড়ুন:
জলঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পুনর্নির্মাণে অর্থ সহায়তা

/এসএনএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
অলসতা মনে হলেও যে অভ্যাসগুলো হতে পারে বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ
অলসতা মনে হলেও যে অভ্যাসগুলো হতে পারে বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ
হঠাৎ রেমিট্যান্স আসা কমে গেলো
হঠাৎ রেমিট্যান্স আসা কমে গেলো
টেইটের জায়গায় তালহা জুবায়ের, প্রশংসায় ভাসালেন হান্নান সরকার 
টেইটের জায়গায় তালহা জুবায়ের, প্রশংসায় ভাসালেন হান্নান সরকার 
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে দিতে হবে না বাড়তি দাম
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে দিতে হবে না বাড়তি দাম
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের