ডিপথেরিয়া, এইচআইভিসহ জটিল রোগের ঝুঁকিতে রোহিঙ্গারা

Send
আবদুল আজিজ, কক্সবাজার
প্রকাশিত : ১৩:১৭, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:২২, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭

 

রোহিঙ্গা সংকটকক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ডিপথেরিয়া,এইচআইভিসহ জটিল রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এইচআইভি এবং বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ডিপথেরিয়া রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বেড়ে চলছে। এ পর্যন্ত এইচআইভি-তে আক্রান্ত ১১২ জন রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, গত এক সপ্তাহে ৫০৮ জন ডিপথেরিয়া রোগী শনাক্ত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পাশাপাশি যক্ষ্মা, হাম, পোলিও, কলেরা ও ডায়রিয়াসহ অজ্ঞাত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে রোহিঙ্গারা। এ কারণে সরকারিভাবে রোহিঙ্গাদের রোগ প্রতিরোধে টিকা ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংস ঘটনায় গত ২৫ আগস্টের পর থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ছয় লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা। তাদের জন্য কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে নির্ধারিত জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে অস্থায়ী আশ্রয় ক্যাম্প। কিন্তু এসব ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গারা রয়েছে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। বিপদগ্রস্ত এই মানুষের মাঝে চিকিৎসাসেবা দিতে সরকারি ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে চিকিৎসা ক্যাম্প। এসব চিকিৎসা ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে রোহিঙ্গারা।

উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের মধ্যে ১১২জন এইচআইভি আক্রান্ত। কক্সবাজার ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে সম্প্রতি দু’জন মারা গেছে। এদিকে বাংলাদেশে বিশ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ডিপথেরিয়া রোগের সন্দেহে ৫০৮ জন রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই রোগের চিকিৎসাসেবা দিতে স্বাস্থ্য বিভাগ দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 উখিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ডিপথেরিয়া রোগে আক্রান্ত ৫০৮ জন রোগিকে শনাক্ত করা হয়েছে। এই রোগ আক্রান্তদের শ্বাসতন্ত্র বিশেষ করে নাক ও গলার টিস্যু নষ্ট করে দেয়। ডিপথেরিয়ার লক্ষণগুলো দেখা যায় ইনফেকশন হওয়ার দুই থেকে সাত দিন পরে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে জ্বর থাকে। ক্লান্তি ও শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। গলা ব্যথা হয়। গলার গ্রন্থি ফুলে যায়। কোনও কিছু গিলতে সমস্যা ও ব্যথা হয়। অনেক বেশি কাশি হয়।’

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার শাহীন মো. আব্দুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গারা আসার পর থেকে প্রতিনিয়ত অসংখ্য রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এই রোগীদের মধ্যে স্ক্যানিং টেস্টের মাধ্যমে ১১২ জন ‘এইচআইভি’ রোগে আক্রান্ত রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিদের কক্সবাজার সদর হাসপাতাল, এমএসএফ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে আলাদা করে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, গত এক সপ্তাহ ধরে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ডিপথেরিয়া রোগের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাদেরও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’ 

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৫০৮ জন ডিপথেরিয়া রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের এমএসএফ হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত এই রোগে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ডিপথেরিয়া রোগের লক্ষণ হচ্ছে, প্রচণ্ড জ্বর, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট। এই রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রথমে অ্যান্টিটক্সিন ইনজেকশন দিয়ে ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে হয়। এছাড়া ইরাথ্রোমাইসিন ও পেনিসিলিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয় ইনফেকশন দূর করার জন্য। যেহেতু এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ, তাই ডিপথেরিয়া আক্রান্ত রোগীদের আলাদা করে রাখা হয়। উখিয়ার ৪৮টি ও টেকনাফের ১২টি ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদেরকে ডিপথেরিয়ো রোগের প্রতিষেধক টিকা দেওয়ার কাজ করছে ১২০ জন স্বাস্থ্যকর্মী।’

সিভিল সার্জন বলেন, ‘ডিপথেরিয়া, এইচআইভি রোগের পাশাপাশি হাম, যক্ষ্মা, পোলিও, কলেরা ও ডায়রিয়া রোগ প্রতিরোধ ও মৃত্যুর ঝুঁকি এড়াতে টিকা ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।’

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ