স্বীকৃতি পাওয়ার আগেই চলে গেলেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওহাব

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
২২ ডিসেম্বর ২০১৭, ১২:১৭আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৭, ১২:১৯

আব্দুল ওহাব স্বাধীনতার সময় সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন আব্দুল ওহাব। শত্রুদের পরাজিত করে স্বাধীন বাংলার লাল-সবুজ পতাকা যখন মুক্ত আকাশে উড়ছিল ঠিক সেই সময় থেকে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। অথচ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির আগেই তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

দীর্ঘদিন লিভার সিরোসিস রোগে ভোগার পর শনিবার (৯ ডিসেম্বর) বিজয়ের মাসেই মারা গেলেন আব্দুল ওহাব। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি সদর উপজেলার সুরাট গ্রামের মৃত আনার উদ্দীনের ছেলে। কালীগঞ্জ উপজেলার চাপালী গ্রামে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তিনি।  

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে আব্দুল ওহাব বিভিন্ন রণাঙ্গনে অংশ গ্রহণ করেন। তিনি ঝিনাইদহ জেলার বিষয়খালী সম্মুখ যুদ্ধেও অংশ নেন। পরবর্তীতে উচ্চ প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের বনগাঁ মহকুমার চাঁপাবাড়ীয়া যুব শিবিরে ভর্তি হন এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে আবারও দেশে ফিরে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।

আব্দুল ওহাবের ছেলে ট্রাক ড্র্রাইভার জাহাঙ্গীর আলম পান্নু জানান, তার পিতা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সরাসরি যুদ্ধ করেছেন। ১৯৭১ সালের ৩০ অক্টোবর ১৯৭১ থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাঁপাবাড়ীয়া ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এজন্য চাঁপাবাড়ীয়া মুক্তিফৌজ  ক্যাম্পের   তৎকালীন  ডিপুটি-ইন-চার্জ মিস্টার এ খালেক তাকে সার্টিফিকেটও দিয়েছেন। তার লাল মুক্তিবার্তা নম্বর-০৪০৯০২০০৯৮। 

তিনি আরও জানান, তার বাবা ১৯৮৫ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য অনেকবার আবেদন করেন। কিন্তু গেজেটে তার নাম আসেনি। সর্বশেষ ২০১২ সালে যাচাই বাছাই তালিকায় তার নাম আসে।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার হেলাল উদ্দীন সর্দার জানান, আব্দুল ওহাব মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন। তার কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটে নাম আসেনি।

আব্দুল ওহাবের জামুকা তালিকার ক্রমিক নম্বর-ডিজি ১১৩৯১৩৩। ‘ক’ শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্তির আবেদনপত্রে তার পক্ষে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য হিসেবে উপজেলা কমান্ডার,  কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের প্রতিনিধি, মুবিনার প্রতিনিধি, জামুকার প্রতিনিধি, জেলা কমান্ডারের প্রতিনিধি, সদস্য সচিব (উপজেলা নির্বাহী অফিসার) ও সভাপতিসহ কমিটির সবাই সুপারিশ করেছেন। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন বলে স্বাক্ষর করেছেন সবাই।

এছাড়া আব্দুল ওহাব মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বলে কালীগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পাঁচ সদস্য প্রত্যয়ন করেছেন। যারা প্রত্যয়ন করেছেন তারা হলেন- মুক্তিযোদ্ধা ওলিয়ার রহমান, আবুল হোসেন, আবুল হোসেন, রেজাউল করিম, মুক্তিযোদ্ধার কমান্ডার হেলাল উদ্দীন সর্দার ও রবিউল ইসলাম।

 

 

 

 

/এএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেফতার ২
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেফতার ২
কর্মকর্তাদের কলম বিরতির নির্দেশনা নেই: ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি
কর্মকর্তাদের কলম বিরতির নির্দেশনা নেই: ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি
উচ্চ ক্ষমতার কার্বন ফাইবারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু চীনে
উচ্চ ক্ষমতার কার্বন ফাইবারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু চীনে
অলসতা মনে হলেও যে অভ্যাসগুলো হতে পারে বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ
অলসতা মনে হলেও যে অভ্যাসগুলো হতে পারে বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী