লালমনিরহাটের বুড়িমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফে)নির্যাতনে আহত আজম আলী (২২)নামে এক ব্যক্তি বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। তবে আব্দুল লতিফ নামে আরেক জন বিএসএফের হাতে আটক রয়েছে বলে জানা যায়। বৃহস্পতিবার (২৮-ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ৮৪৩ নম্বর মেইন পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
আহত আজম আলী পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের উফারমারা এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্থানীয় পুলিশ ও বিজিবির হাত থেকে গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপন করেছে বলে পরিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অপরদিকে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আত্রাই এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে আব্দুল লতিফ (৩৫) ভারতীয় কোচবিহার-৬১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চ্যাংরাবান্ধা ক্যাম্পে আটক রয়েছেন বলে জানা যায়।
রংপুর-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সূত্র জানায়, বুধবার (২৭ ডিসেম্বর)রাতে আব্দুল লতিফ ও আজম আলীসহ কয়েকজন ভারতীয় গরু পারাপারকারী রাখালদের সহযোগীতায় শ্রীমারপুর-বুড়িমারী ইউনিয়নের মাস্টারের বাড়ি সীমান্তের ধরলা নদী দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশে করে। বৃহস্পতিবার (২৮ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তারা গরু নিয়ে ফেরার পথে কোচবিহার-৬১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের টহল দলের হাতে ধরা পড়ে। এ সময় বিএসএফ টহল দলের সদস্যরা তাদের মারধর করতে থাকেন। এক পর্যায়ে আজম আলী কৌশলে পালিয়ে আসে। পরে বিএসএফ আব্দুল লতিফকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. রফিকুল ইসলাম এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিএসএফের নির্যাতনে আহত আজম আলী (২২) প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে। তবে তার শরীরে মারধরের চিহ্ন রয়েছে।’
রংপুর বিজিবি-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মেজর মুনীরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,‘এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে কড়া প্রতিবাদপত্র দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কোম্পানি কমান্ডার লেভেলে পতাকা বৈঠকের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।’
এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর একই সীমান্তে রশিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক বাংলাদেশিকে আটক করে নির্মম নির্যাতন করে বিএসএফ। পরে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে মৃত ভেবে তাকে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে লুকিয়ে থাকা অন্য গরু রাখালরা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নেওয়ার পথে পাগলাপীর নামকস্থানে তার মৃত্যু হয়।








