পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ইউপি সদস্য ইদ্রিস তালুকদারকে পিটিয়ে দুই পা ও এক হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার তুষখালী লঞ্চঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ইদ্রিসকে উদ্ধার করে প্রথমে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানের চিকিৎসকরা রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
ইদ্রিস উপজেলার ২নং ধানীসাফা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান তালুকদার (৫০) হত্যা মামলার আসামি।
জানা গেছে, ইদ্রিস তালুকদার মঙ্গলবার বিকালে ধানীসাফা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে বুড়িরচর গ্রামের তুষখালী লঞ্চঘাটের কাছে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষরা তার ওপর হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তার হাত-পা ভেঙে দেয়।
ধানীসাফা ইউপি চেয়ারম্যান (বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান তালুকদার হত্যা মামলার আসামী) হারুনর রশীদ তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, ‘স্থানীয় শাহীন তালুকদার, স্বপন তালুকদার, খলিল মোল্লা, শাহ আলম ও তালুকদারের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জনের একদল লোক ইদ্রিস তালুকদারের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। পরে তারা হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে ইদ্রিসের হাত-পা ভেঙে স্থানীয় শহিদুল তালুকদারের বাড়ির পেছনে ফেলে রেখে যায়।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, ধানীসাফা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান তালুকদারকে হত্যার ঘটনায় তার ছেলে কলেজছাত্র মো. হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে ৬ সেপ্টেম্বর একটি হত্যা মামলা দায়ের করেনে। মামলায় ধানীসাফা ইউপি চেয়ারম্যান ও ধানীসাফা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশীদকে প্রধান আসামি ও ধানীসাফা ইউনিয়নের ৪নং (উদয়তারা -বুড়িরচর) ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইদ্রিস তালুকদারকে ২নং আসামিসহ ১৭ জন নামীয় ও আরও ৫ থেকে ৬ জন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়। এ মামলায় ধানীসাফা ইউপি চেয়ারম্যান ও ধানীসাফা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশীদ ও ধানীসাফা ইউনিয়নের ৪নং (উদয়তারা -বুড়িরচর) ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইদ্রিস তালুকদার প্রথমে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন। এর আগে তারা নিম্ন আদালত থেকেও জামিন নিয়েছেন।







