খুলনা থেকে কাস্টমস হাউস মোংলায় স্থানান্তর কবে?

আবুল হাসান, মোংলা
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৫:০৮আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৮:২১

মোংলা বন্দর

বন্দর ব্যবহারকারীদের দাবির মুখে বেশ কয়েক বছর আগেই মোংলা কাস্টমস হাউস খুলনা থেকে মোংলা বন্দরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সরকারি সে দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী মহলের কারণে কাস্টমস হাউস খুলনা থেকে মোংলায় স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ গত বছরের ৫ আগস্ট মোংলা বন্দরের উপদেষ্টা কমিটির ১৪তম সভায় বর্তমান নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, স্থানীয় সাংসদ আলহাজ তালুকদার আব্দুল খালেক, বাগেরহাট-৪ এর সংসদ সদস্য আলহাজ ডা. মোজাম্মেল হোসেন, বাগেরহাট-২ এর সাংসদ অ্যাডভোকেট মীর শওকত আলী বাদশা, সাবেক হুইপ ও খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুন অর রশিদসহ কমিটির শীর্ষ কর্মকর্তারা খুলনার খালিশপুর থেকে মোংলা বন্দরে কাস্টমস হাউস স্থানান্তরের তাগিদ দেন। এরপর কয়েক মাস কেটে গেলেও ওই নির্দেশনা আলোর মুখ দেখেনি। এর আগে ২০১১ সালেও মোংলা বন্দরের উপদেষ্টা কমিটির সভায় বর্তমান নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান কাস্টমস অফিস খুলনা থেকে মোংলায় আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘তাদের আবাসিক ভবনসহ মূল কার্যক্রম মোংলায় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে তা বাস্তবায়ন করা বেশ জটিল ও সময় সাপেক্ষ।’

১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের দ্বিতীয় সামুদ্রিক বন্দর হিসাবে মোংলার কার্যক্রম শুরু হয়। তখন থেকেই মোংলা কাস্টমস হাউস খুলনার খালিশপুরে অবস্থিত। মোংলা বন্দর থেকে খুলনার খালিশপুর পর্যন্ত দূরত্ব ৫৮ কিলোমিটার। শুল্কায়নসহ পণ্য খালাসের জন্যে দুই থেকে তিন দফায় খুলনা-মোংলা করতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা হয়রানি শিকার হন। এ অবস্থা চলছে দীর্ঘ ৬৭ বছর ধরে।

মোংলা কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার মো. সেলিম শেখ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মংলা বন্দর প্রতিষ্ঠার পর থেকে মোংলা বন্দরের আমদানি ও রফতানিকৃত পণ্যের কাস্টমস সংশ্লিষ্ট যাবতীয কার্যক্রম খুলনা ও মোংলা এ দুই স্থানেই করতে হয়। পণ্য পরীক্ষা, রামেজ (ঘোষণার অতিরিক্ত কোনও পণ্য জাহাজে আছে কি-না তা পরীক্ষা), ইপিজেড পণ্য পরীক্ষা ও শুল্কায়ন, পণ্য খালাস, প্রিভেন্টিভসহ (নিবারকমূলক কার্যক্রম) আনুষঙ্গিক কার্যক্রম মোংলা কাস্টমস কাউসের বন্দর ইউনিট অর্থাৎ মোংলা বন্দরে সম্পন্ন হচ্ছে। অন্যদিকে সব প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি আইজিএম (জাহাজে আমদানিকৃত পণ্যের ঘোষণা) দাখিল, আমদানি ও রফতানিকৃত পণ্যের শুল্কায়ন, ব্যাংকিং কার্যক্রম ও রাসায়নিক পরীক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম খুলনার খালিশপুরে অবস্থিত মূল কার্যালয়ে সম্পন্ন হয়।

খুলনা সি অ্যান্ড এফ  অ্যাসোসিয়েষনের সভাপতি সুলতান আহম্মেদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আমদানি ও রফতানি পণ্যের শুল্ক প্রক্রিয়া সম্পাদন করার জন্য তাদের দুই থেকে তিন দফা মোংলা-খুলনা যাতায়াত করতে হয়। দূরত্বের কারণে ভোগান্তি এবং পণ্য খালাসেও দেরি হয়।

মোংলা বন্দর দিয়ে প্রথম গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হক’স বে অটোমোবাইলসের স্বত্বাধিকারী ও বাংলাদেশ রিকন্ডিশন ভেইক্যালস ইম্পোটার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডার) সাবেক সভাপতি আব্দুল হক বলেন, দুই স্থানে আমাদের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। শুল্ক পরিশোধ করে গাড়ি অথবা পণ্য খালাস করতে আমাদের প্রায় একটি দিন চলে যায়। বন্দরের সঙ্গেই শুল্ক কার্যালয় থাকলে এই সময় নষ্ট আর ভোগান্তি থেকে আমরা মুক্ত হতাম। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো এমনকি চট্রগ্রামেও বন্দরের সঙ্গে শুল্ক কার্যালয়। মোংলা বন্দরেও এই ব্যবস্থা থাকলে ব্যবসায়ীরা এ বন্দর ব্যবহারে আরও আগ্রহী হতো।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন রফিক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শুধু কার্যালয় মোংলায় আসলেই তো সমস্যার সমাধান হবে না। শুল্কায়ন কার্যক্রমের সঙ্গে বেশ কিছু কার্যক্রম জড়িত। ব্যাংকিং সেবা, ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিএন্ডএফ), শিপিং অ্যাজেন্সির কার্যক্রমসহ বেশ কিছু কার্যালয়ও শুল্ক কার্যালয়ের সঙ্গে সঙ্গে মোংলায় স্থানান্তর করতে হবে। যেমন, মোংলা বন্দর এলাকায় মাত্র দুটি ব্যাংকের শাখা আছে। সিএন্ডএফ কার্যালয়গুলো সব খুলনায় অবস্থিত। একইভাবে শিপিং কার্যালয়গুলো খুলনায় থেকে মোংলা বন্দরে স্থানান্তর করতে হবে। সেটা না হয়ে শুধু কাস্টমস কার্যালয় মোংলায় স্থানান্তর হলে সমস্যার সমাধান হবে না। সরকারকে এ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

বন্দর ব্যবহারকারী ও খুলনা চেম্বারের সদস্য এইচ এম দুলাল অভিযোগ করে বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যবসায়িক নেতা ও কাস্টমসের অভ্যন্তরে ঘাঁপটি মেরে থাকা এক শ্রেণীর কর্মকর্তা চায় না কাস্টমস অফিস খুলনা থেকে মোংলায় স্থান্তান্তর হোক। এক চক্র দুটি নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে কাস্টমস অফিস খুলনার থেকে মোংলায় আসার প্রক্রিয়ায় কৌশলে নানা প্রতিবন্ধকতা ও জটিলতা সৃষ্টি করছে। যার ফলে এটি বাস্তবায়নে শুধু সময় নষ্ট হচ্ছে।

মোংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মারগুব আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বন্দরের সঙ্গে কাস্টমস কার্যালয় স্থানান্তর এখন সময়ের দাবি। নৌ-পরিবহনমন্ত্রী মহোদয়ও আমাদের সেই নির্দেশনা দিয়েছেন। কার্যালয় ও আবাসিক ভবনসহ আমরাও মোংলায় স্থানান্তরিত হতে চাই। কিন্তু পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল ও সময় সাপেক্ষ। এরইমধ্যে আমরা সে প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সবকিছু শেষ করে আমরা মোংলায় যেতে পারব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর এ কে এম ফারুক হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যে কোনও মূল্যেই আমরা চাই মোংলা বন্দরের সঙ্গেই কাস্টমস কার্যালয় স্থানান্তরিত হোক। আপাতত সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের ট্রাফিক বিভাগের কিছু কক্ষ তাদের ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু তাতে তাদের পুরো কার্যক্রম সম্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ সমস্যা সমাধানে যত দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। সেটি আমাদের বন্দরের জন্য মঙ্গল।

আরও পড়ুন: কোনও অপরাধী আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না: তথ্যমন্ত্রী



 

/জেবি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
পদোন্নতি না পাওয়ায় পদত্যাগ করলেন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান 
পদোন্নতি না পাওয়ায় পদত্যাগ করলেন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান 
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি, কমেছে তাপমাত্রা 
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি, কমেছে তাপমাত্রা 
কারামুক্ত স্বামীকে জড়িয়ে কাঁদলেন স্ত্রী, আবার ধরে নিয়ে গেলো ডিবি পুলিশ
কারামুক্ত স্বামীকে জড়িয়ে কাঁদলেন স্ত্রী, আবার ধরে নিয়ে গেলো ডিবি পুলিশ
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি