কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসকদের কক্ষ ভাঙচুর ও কর্মরত নারী চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজামান বিন শহীদ ওরফে অন্তরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি এ বহিষ্কারাদেশ দেয় বলে জানিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ আহমেদ।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসক লাঞ্ছিত ও ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি পালন করেন। পরবর্তী সময়ে দোষীদের শাস্তির আশ্বাসে কর্মবিরতি তুলে নেওয়া হয়। মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণাধীন থাকায় এর শিক্ষার্থীরা জেনারেল হাসপাতালে ইন্টার্ন করেন।
কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি নূরুন্নবী হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। বৈঠকে হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়।
এর আগে বুধবার এক রোগীর মৃত্যুর পর কয়েকজন স্বজন অভিযোগ করেন, তারা অক্সিজেন চেয়েও পাননি। এজন্য তাদের রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ অভিযোগে নিহত রোগীর স্বজনেরা হাসপাতালের চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হন। তারা হাসপাতালের নিচতলায় ইন্টার্ন চিকিৎসক ইশরাত হুমায়রাকে গালিগালাজ ও আপত্তিকর কথা বলেন। শুধু তাই নয়, কিছু বুঝে ওঠার আগেই রোগীর স্বজনেরা ইশরাত হুমায়রার হাত মুচড়ে ধরেন এবং পরে তারা কয়েকজন চিকিৎসকের কক্ষের জানালা ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য রাশেদুল ইসলাম ছুটে এলে তার ওপরও চড়াও হন এক যুবক। তিনি ওই পুলিশ সদস্যের চাকরি খেয়ে নেওয়ার হুমকি দেন। এসময় ওই যুবক পকেট থেকে একটি ভিজিটিং কার্ড বের করে পুলিশ সদস্য রাশেদুল ইসলামের হাতে দিয়ে বলেন, ‘তোর বাপকে চিনে রাখ’। ভিজিটিং কার্ড থেকে পরিচয় পাওয়া যায় ওই যুবক জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজামান বিন শহীদ ওরফে অন্তর।
কুষ্টিয়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ ওবায়দুল্লাহ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।








