মায়ের অনুপ্রেরণাতে সফল লাকী

Send
এস এম সামছুর রহমান, বাগেরহাট
প্রকাশিত : ১৩:০৬, মার্চ ২৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:১৭, মার্চ ২৪, ২০১৮

 

রেহানা পারভীন লাকী

অধ্যবসায়ের মাধ্যমে কোনও কাজ করলে সফলতা যে আসবে তার জলন্ত প্রমাণ বাগেরহাটের রেহানা পারভীন লাকী। সফলতার আলোয় শুধু তিনিই আলোকিত হননি, আলোর পথে এনেছেন আরও অনেক নারীকে।

লাকীর মা ফাতেমা মুসলেমের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৮০ সালে বাগেরহাট শহরের শালতলা এলাকায় ‘শাপলাফুল’ নামের একটি সামাজিক সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। প্রাথমিকভাবে অল্প কিছু লোক নিয়ে যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি। ওই সময়ে বাগেরহাট পৌরসভার পরিবার পরিকল্পনার কার্যক্রম পরিচলানা করতো সংগঠনটি। ১৯৮২ সালে তার মা মারা যান। ওই সয়ম লাকী কলেজ ছাত্রী। সেই অবস্থায় তিনি সংগঠনের হাল ধরেন। তখন সংগঠনের কর্মী ছিল মাত্র ১২ জন। দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে নানা সংগ্রাম করে প্রতিষ্ঠানটি সফল পয়েছে। বর্তমানে লাকী প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক।

তিনি বলেন, মায়ের অনুপ্রেরণাতেই সমাজের গরীব-দুস্থ মানুষের জন্য কিছু করেছেন তিনি।

১৯৮২ সালে বাগেরহাট শহরের হরিণখানা এলাকার মোসাদ্দেক মোর্শেদ মাশুকের সঙ্গে বিয়ে হয় লাকীর। ১৯৯৫ সালে তার স্বামী মারা যান। শোককে শক্তিতে পরিণত করে ৭ মাসের মেয়েকে লালন-পালনের পাশাপাশি সংগঠনের কাজ চালিয়ে যান।

লাকী বলেন, মায়ের মৃত্যুর পর মাত্র ১২০০ টাকা বেতন নিয়ে কাজ শুরু করি। পরিবার পরিকল্পনার কাজ তখন সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমেও করা হতো। এরই অংশ হিসেবে বাগেরহাট পৌরসভার তৎকালীন ৩টি ওয়ার্ডে অনুদানের মাধ্যমে শাপলাফুল কাজ শুরু করে। এ কাজের পাশাপাশি সামাজিক কাজও চলতো এখানে।

সংগঠনের ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বাগেরহাটের তৎকালীন এসডিও সাহেব শাপলাফুলের ১২ নারীকে একটি করে সেলাই মেশিন কিনে দেন। এভাবে সংগঠনের কার্যক্রম বাড়তে থাকে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৮৯ সালের ১ জুলাই ওভারসিস ডেভেলপ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নামের একটি সংস্থা বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর, রাখালগাছি, খানপুর ও বারুইপাড়া ইউনিয়নের প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের জন্য আর্থিক সহযোগিতা দেয়। এই কার্যক্রম প্রায় ৮ বছর অব্যাহত ছিল।

পরবর্তীতে অ্যাডভোকেসি, সামাজিক অধিকার নিয়ে দীর্ঘ দিন সফলতার সঙ্গে সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের অগ্রসর করতে কাজ শুরু করে সংগঠনটি।

বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মাছ চাষিদের বিভিন্ন রকম সহায়তা, ভিজিডি ভাতা বিতরণ, উপ-আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষাসহ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

শাপলাফুলের সঙ্গে কাজ করে বাগেরহাট সদর উপজেলার লাউপালার কবিতা রানী জয়িতা পুরস্কার পেয়েছেন। রাখালগাছী ,যাত্রাপুর  ও খানপুর ইউনিয়নে কৃষ্ণা, রিনাসহ অনেকে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে নির্বাচন করছেন। এছাড়া আরও অনেক নারী বিভিন্নভাবে সফলতা পেয়েছেন।

সমাজের অবহেলিত নারীদের নিয়ে কাজ করা লাকীও বিভিন্ন সময়ে নানা পুরস্কার পেয়েছেন। তবে তার শেষ ইচ্ছা উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের জন্য একটি বৃদ্ধাশ্রম ও মেয়েদের জন্য এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করার।

 

/এসটি/

লাইভ

টপ