হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে আলোচিত কিশোরী বিউটি ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে পেছনে পুলিশের অবহেলা ও গাফিলতি রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিটি। পাশাপাশি মূল অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে গ্রেফতারের জন্য তার আত্মীয়-স্বজনদের থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শুক্রবার (৩০ মার্চ) আবারও তদন্ত কমিটির ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা রয়েছে। কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ স ম শামছুর রহমান ভূইয়া এসব তথ্য জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা বিষয়টি তদন্ত করার জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেন। তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে কমিটিকে। এর পরপরই তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিহত বিউটি আক্তারের মা-বাবাকে থানায় ডেকে পুলিশের গাফিলতি বা তদন্ত অফিসারের কোনও ধরনের গাফিলতি কিংবা অবহেলা আছে কিনা সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে।
হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ স ম শামছুর রহমান ভূইয়াকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বানিয়াচং সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা ও সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাজিম উদ্দিন।
নিহত বিউটি আক্তারের বাবা সায়েদ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পুলিশ এখন নিয়মিত খোঁজ-খবর নিচ্ছে আমাদের।’ বিউটি ধর্ষণের মামলা থানায় না করে আদালতে কেন করলেন এমন প্রশ্নের জবাবে সায়েদ আলী বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সরাসরি আদালতে মামলা দায়ের করি।’ তবে তিনি পুলিশের বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন।
শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, ‘বিউটি হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের বিষয়ে পুলিশ কোনও পর্যায়েই অবহেলা কিংবা গাফিলতি করেনি। যখনই মামলাটি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে বাবুলের মা-সহ দুজনকে আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে। বাবুলকে গ্রেফতারে আমাদের টিম কাজ করছে।’
তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ স ম শামছুর রহমান ভূইয়া বলেন, ‘তদন্ত শুরু করেছি। এই মুহূর্তে কিছুই বলা যাচ্ছে না। যেহেতু সময় মাত্র তিন দিন, আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যেই তদন্ত সম্পন্ন করতে পারবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘মামলার শুরুতেই পুলিশের কোনও গাফিলতি কিংবা অবেহলা আছে কিনা বা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কোনও ধরনের অবহেলা ছিল কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করতে হচ্ছে।’
গত ২১ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জের ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের দিনমজুর সায়েদ আলীর মেয়ে বিউটি আক্তারকে (১৪) বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বাবুল মিয়া ও তার সহযোগীরা। এরপর এক মাস তাকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এক মাস নির্যাতনের পর বিউটিকে কৌশলে তার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায় বাবুল। এ ঘটনায় গত ১ মার্চ বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা স্থানীয় ইউপি মেম্বার কলমচানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরে মেয়েকে সায়েদ আলী তার নানার বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন। এরপর বাবুল ক্ষিপ্ত হয়ে ১৬ মার্চ বিউটি আক্তারকে উপজেলার গুনিপুর গ্রামের তার নানার বাড়ি থেকে রাতের আঁধারে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। ফের ধর্ষণের পর তাকে খুন করে লাশ হাওরে ফেলে দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
বিউটিকে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে ১৭ মার্চ তার বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল মিয়াসহ দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ২১ মার্চ পুলিশ বাবুলের মা কলমচান ও সন্দেহভাজন হিসেবে একই গ্রামের ঈসমাইলকে আটক করে। কিন্তু মূল হোতা বাবুলকে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ।
আরও পড়ুন-
হবিগঞ্জে বিউটি হত্যাকাণ্ড: পুলিশের ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি
উত্ত্যক্তের বিচার চাওয়ায় ধর্ষণ, মামলা করায় হত্যা!
‘ধর্ষক’ বাবুলের আদ্যোপান্ত








