গোপালগঞ্জের মকসুদপুরে সুগন্ধা পরিবহনের গাড়িটি খাদে পড়ার আগে চালক মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। আহত যাত্রীদের বরাত দিয়ে গোপালগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক জানে আলম বাংলা ট্রিবিউনকে একথা জানিয়েছেন।
তিনি জানান, আহত যাত্রীরা তাকে বলেছেন ওই বাসের চালক দুর্ঘটনার আগে খুব দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তাছাড়া তিনি কারও সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন।
প্রসঙ্গত, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার বরইতলা নামক স্থানে শনিবার রাত পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বরিশালগামী সুগন্ধা পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের ৬ যাত্রী নিহত হয় এবং ৩১ জন আহত হয়। পরে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের অতিরিক্ত পরিচালক এবিএম মমতাজ উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের মোট ৬টি ইউনিট দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করাসহ আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
নিহতদের মধ্যে ৪ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন-বরগুনার হাসান মিয়া (২৫), বরিশালের অসিম মাঝি (৩৫), দিপন বিশ্বাস (২৮) এবং বরগুনার নাজির গাজী (৩৬)। বাকিদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি এজাজুল ইসলাম বলেন, নিহতদের লাশ তাদের কাছে রয়েছে। নিতদের পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান জানান, খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই মুকসুদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং হতাহতদের উদ্ধার করে। বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তিনি নিজে দুর্ঘনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার জানান, তারা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।







