দেড় বছর পর আগামী ২৫ এপ্রিল শুরু হবে দিনাজপুরে পাঁচ বছরের শিশু পূজাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ। এই মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হলেও জামিনে রয়েছে অপর আসামি। এই মামলায় সাক্ষী রয়েছেন মোট ২৪ জন। প্রথম দিন মামলার বাদী সুবল চন্দ্র দাস ও সাক্ষী মাহফুজার রহমান সাক্ষ্য দিবেন।
পূজা পার্বতীপুর উপজেলার জমিরের হাট তকেয়া পাড়া এলাকার পিকআপ ভ্যান চালক সুবল চন্দ্র দাসের মেয়ে।
জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর দুপুরে বাড়ির সামনে কাঁচা রাস্তায় কয়েকজন ছেলে-মেয়ের সঙ্গে খেলা করছিল। সেখান থেকে সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি শিশুটিকে ফুসলিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এই কাজে তাকে সহযোগিতা করে আফজাল হোসেন কবিরাজ। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টসহ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতসহ সিগারেটের ছ্যাকা দেয়। পরে বাড়ির পাশের একটি হলদী ক্ষেতে পুতে রাখে। এদিকে বাড়ির লোকজন অনেক খোজাখুজি করে না পেয়ে রাতেই পূজার বাবা সুবল চন্দ্র দাস পার্বতীপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরের দিন সকালে পূজাকে বাড়ির পাশের হলদী ক্ষেত থেকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং প্রথমে স্থানীয় ল্যাম্ব হাসপাতাল ও পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ২০ অক্টোবর রাতে পুজার বাবা পার্বতীপুর থানায় একই গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম ও আফজাল হোসেন কবিরাজকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ৭ দিন পর ২৫ অক্টোবর পুলিশ অভিযুক্ত সাইফুলকে দিনাজপুরের ঈদগাহ বস্তি এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে। পরে পুলিশের বিশেষ সেল গঠন করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং গত ৩ নভেম্বর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামি সাইফুল ইসলামকে আদালতে সোর্পদ করে পুলিশ। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান পার্বতীপুর থানার এসআই স্বপন কুমার চৌধুরী। পরে সে বদলী হয়ে গেলে এই মামলার দায়িত্বভার পান পার্বতীপুর থানার এসআই আবু সাঈদ।
এ ব্যাপারে এসআই আবু সাঈদ জানান, মামলাটি বর্তমানে দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে রিমাণ্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও সে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেনি। তবে ভিকটিমের জবানবন্দী, সাক্ষ্য প্রমাণ ও যুক্তিতর্কে আসামি সাইফুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই ঘটনায় ধর্ষকের সহযোগী হিসেবে আফজাল হোসেন কবিরাজের সংশ্লিষ্টতাও পাওয়া গেছে। যার ফলে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই মামলার অভিযুক্ত দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে বর্তমানে কারাগারে আছে। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকায় মামলার অপর আসামি আফজাল হোসেন কবিরাজকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। তবে আদালতের আদেশ হলে ওই আসামিকেও গ্রেফতার করা হবে বলে তিনি জানান।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পেশকার আরিফুল ইসলাম জানান, এই মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম জেল হাজতে রয়েছে। অপর আসামি আফজাল হোসেন কবিরাজ উচ্চ আদালতের জামিনে রয়েছে। সে এই মামলায় হাজিরা দিচ্ছে। আগামী ২৫ এপ্রিল এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। এই মামলায় ২৪ জন সাক্ষী রয়েছেন। প্রথম দিন মামলার বাদী সুবল চন্দ্র দাস ও মাহফুজার রহমান দুই জনের সাক্ষ্য দিবেন।
দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি মেহবুব হাসান চৌধুরী লিটন জানান, মামলাটির কার্যক্রম মোটামুটিভাবে গুছিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে মোট ২৪ জন সাক্ষির সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় অভিযুক্তরা কোনও ভাবেই যাতে জামিন না পায় এবং তাদের যাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় সেইভাবেই মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: পাবনায় এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১৬ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধি








