লংগদু উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়িদের প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর মাধ্যমে দেওয়া ঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। বুধবার সকালে এ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী দীপংকর তালুকদার।
এর আগে তিনটিলা বৌদ্ধ বিহার এলাকায় এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। লংগদু সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুলিন মিত্র চাকমা আদুরের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা হেডম্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক কেরল চাকমা, রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য মো. জানে আলম ও লংগদু উপজেলা চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেনসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় যতদ্রুত সম্ভব ঘরবাড়ি নির্মাণের দাবি জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে বিত্র বিকাশ চাকমা বলেন,‘যাদের দোকান ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা কোনও ক্ষতিপূরণ পায়নি। এছাড়াও আমাদের এক বছরের জন্য ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে চাল দেওয়া ব্যবস্থা করা হয়েছি। এই কার্ডের সময় প্রায় শেষ। এটা আর কয়েক বছর চালু রাখার দাবি জানাচ্ছি।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপংকর তালুকদার বলেন,‘এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের মধ্যে অনেকে বাঁচার জন্য ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে আমাদের সঙ্গে থাকতে পারে,তাদেরও কোনও ছাড় নাই। ঘর নির্মাণ হলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এই ধরণের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেদিকে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন,‘ভিজিএফ কার্ডের মেয়াদ আরও এক বছর বৃদ্ধি করার ব্যাপারে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া যে ১৮ টি দোকান-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকার যাতে তাদের ক্ষতি পুশিয়ে সে ব্যাপারে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
উল্লেখ, গত বছরের ১ জুন লংগদু সদর ইউনিয়নের যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মোটরসাইকেল চালক নুরুল ইসলাম নয়ন ভাড়া যাওয়ার পর বিকেলে খাগড়াছড়ি চার মাইল এলাকায় থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ২ জুন তার লাশ নিয়ে জানাজার জন্য বাইট্টাপাড়া থেকে লংগদু উপজেলা পরিষদ মাঠের দিকে যাওয়ার সময় মিছিলটি তিনটিলা পাড়ায় আসার পর হঠাৎ করে পাহাড়িদের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় ৩টি গ্রামের ২১৩টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের ১৭৬টি বসতঘর নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য মোট ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।








