নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় বাল্যবিয়ে পড়ানোর দায়ে কাজির সহযোগীসহ দুইজনকে জেলে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ জুন) দুপুরের পর তাদের জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এ ঘটনায় বর-কনে পলাতক রয়েছে। মামলার অপর দুই আসামিও পলাতক। পুলিশ বলছে, পলাতকদের গ্রেফতারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
বর স্থানীয় জোনাইল এমএল উচ্চ বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক সাইফুল ইসলাম (২৭) এবং কনে রিয়া খাতুন (১৪) একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বড়াইগ্রাম থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস জানান, জোনাইল এম এল উচ্চ বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক ও দারিকুশি গ্রামের বাসন্দিা সাইফুল সম্প্রতি একই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী পাশ্ববর্তী চর গোবিন্দপুর গ্রামের আজিম খলিফার মেয়ে রিয়াকে বিয়ে করেন। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বাদী হয়ে বর সাইফুল, কনের বাবা আজিম খলিফা এবং বিয়ের কাজির সহযোগী আলাউদ্দিন আলীকে আসামি করে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। এঘটনায় পুলিশ প্রধান কাজি গিয়াসউদ্দিন আযম, সহযোগী কাজি উলাউদ্দিন আলী এবং ভুয়া কাজি চাঁদ মোহাম্মদকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় প্রধান কাজিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে ভূয়া কাজি হিসেবে চাঁদ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। উভয় মামলায় আলাউদ্দিন ও চাঁদ মোহাম্মদকে কোর্টের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, বর-কনে এবং কনের বাবাকে গ্রেফতারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে পুলিশ। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
বিষয়টি সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজ বলেন, ছেলে-মেয়ের নাম ও স্বাক্ষর সাদা কাগজে নিয়ে বিয়ে পড়িয়েছেন কাজির সহযোগী আলাউদ্দিন। অপরদিকে ফাঁকা ফরমেও বর-কনের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। চাঁদ মোহাম্মদের কাছ থেকে বেশ কিছু বিয়ে নিবন্ধন ফরম ও ভুয়া রেজিস্ট্রারও জব্দ করা হয়েছে।








