রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও ভেটেরিনারি সার্জনসহ পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে উপজেলার গবাদি পশু ও হাঁস মুরগির চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ উপজেলার খামারিরা।
২০১৭ সালের আগস্ট মাসে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো.মনিরুল ইসলাম ও সেপ্টেম্বর মাসে ভেটেরিনারি সার্জন ডা. খায়েরুজ্জামান বদলি হন। এরপর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ পদ দুইটি শূন্য রয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ সহকারী কর্মকর্তা ও ড্রেসারও নেই বহুদিন। অফিস সহকারী আনছার আলী প্রেষণে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে বালিয়াকান্দিতে পাংশা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ সপ্তাহে দুই দিন দায়িত্ব পালন করছেন।
বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের উপ-সহকারী মো. আজিজুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন ৫০-৬০টি গবাদি পশু ও দেড়শ থেকে দুইশ হাঁস-মুরগির চিকিৎসা দিতে হয়। এছাড়া পরিদর্শনেও যেতে হচ্ছে। সবাই মিলেমিশে কাজ করার চেষ্টা করছি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াকান্দি উপজেলায় ২২৬টি গবাদি পশুর খামার, ১৪৬টি হাঁস-মুরগির খামার, ২৫টি টার্কি খামার, ১০৯টি ঘাস চাষ প্রকল্প ও ২১টি এন এটিপি সমিতি রয়েছে।
উপজেলার আনন্দ নগর গ্রামের খামারি সুভাষ মজুমদার বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ কার্যালয় হাসপাতালে ডাক্তার না থাকায় গবাদি পশুর চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না। জরুরি ভিত্তিতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে জনবল সংকট দূর করলে উপজেলার খামারিরা উপকৃত হবে।’
বহরপুরের মিরাকেল এগ্রো মাল্টি ফার্মের মালিক মো. মনিরুজ্জামান খাঁন মালেক বলেন, ‘খামারে মাছ চাষ, হাঁসের খামার, গরুর খামার, মুরগি, টার্কি, কবুতর রয়েছে। প্রাণিসম্পদের কোনও লোকই খামারে কখনোই পরিদর্শনে আসেনি।’
রাজবাড়ী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় সমস্যাতো হচ্ছেই। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বা ভেটেরেনারি সার্জন থাকলে এ সমস্যা হতো না। তবে বালিয়াকান্দিতে ভেটেরানারি সার্জনের বাসভবনটি বসবাসের অযোগ্য বলে অনেকে সেখানে গিয়ে থাকতে চান না। আমরা শূন্য পদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি, খুব শিগগির পদগুলো পূরণ হবে।’








