সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি, মাদক বাণিজ্য ও অপরাজনীতির অভিযোগ এনে বরগুনা-১ আসনের এমপি, সাবেক উপমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সব অঙ্গসংগঠনের নেতারা। মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বরগুনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও তার ছেলে সুনাম দেবনাথের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাদক বাণিজ্য ও অপরাজনীতির লিখিত খতিয়ান পাঠ করে শোনান হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর কবীর তার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, চলতি বছর জানুয়ারি মাসে অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর অনিয়ম, দুর্নীতি, মাদক বাণিজ্য ও অপরাজনীতির ২৪ দফা লিখিত অভিযোগ নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সরাসরি দেখা করেছেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে থেকে নজিরবিহীন অনিয়ম, দুর্নীতি আর অপরাজনীতির মাধ্যমে অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। দক্ষ, অভিজ্ঞ, যোগ্য ও প্রতিশ্রুতিশীল রাজনীতিবিদদের দূরে সরিয়ে রেখে অযোগ্য, অশিক্ষিত, ভুঁইফোড় ও অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষমতায়ন করে কোটি কোটি টাকার উৎকোচ বাণিজ্য করে আসছেন তিনি।
এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীরের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি মো. দেলোয়ার হোসেন, বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. হুমায়ুন কবীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব মৃধা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু, জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা গোলাম সরোয়ার ফোরকান, বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শাহ মো. ওয়ালি উল্লাহ অলি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির কৃষি বিষয়ক সহ-সম্পাদক এসএম মশিউর রহমান শিহাব, বরগুনা জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সাবুসহ জেলা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে জেলা যুবলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কৃষক লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের অধিকাংশ নেতা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন- রাজশাহীর ৬টি আসনে আ.লীগ নেতাদের যেসব কারণে অন্তর্দ্বন্দ্ব








