লালমনিরহাটের কাকিনা ও রংপুরের মহিপুরের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুতে ওঠার রাস্তার একটি কালভার্টের অ্যাপ্রোচ সড়কের অংশবিশেষ ধসে গেছে। শুক্রবার সকালে শংকরদহ এলাকায় এই কালভার্টের অ্যাপ্রোচ সড়ক ধসের ঘটনা ঘটেছে। শংকরদহ কালভার্টটির উত্তরের একটি অংশও দেবে গেছে। ফেটে গেছে কালভার্টের তলা। কর্মকতারা বলছেন, তিস্তা দিয়ে ভারত থেকে বন্যার পানি ঢোকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অথচ রবিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী এই সড়ক সেতু উদ্বোধন করবেন বলে কথা রয়েছে।
অ্যাপ্রোচ সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষীটারী ও কোলকোন্দ ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফের তাদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যমে পরিণত হয়েছে নৌকা।
এর আগে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণ চলাকালীন সময়ে দুই দফায় গার্ডার ভেঙে পড়েছিল। এক মাস নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার পর বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ নিয়ে আবার নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। সেতুটির নির্মাণ কাজের তত্ত্বাবধান করে লালমনিরহাট এলজিইডি। নাভানা -জেভি কন্সট্রাকশন ফার্ম এবং স্থানীয় কিছু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ করে।
কালীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি সূত্র জানায়, ১৬ সেপ্টেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুটির উদ্বোধন করবেন বলে কথা রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর উত্তরপ্রান্তে উপস্থিত থাকার কথা আছে লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ-আদিতমারী) আসনের এমপি এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপি। সেতুর উত্তরপ্রান্তে উদ্বোধন উপলক্ষে সাজসজ্জার কাজও চলছিল। এই অবস্থায় সেতুটির অ্যাপ্রোচ সড়ক ধস ও একটি অংশ দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটলো। এ কারণে উদ্বোধনী কার্যক্রম স্থগিত হবে কিনা কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না।
স্থানীয়রা জানান, ৪৮ মিটার দীর্ঘ ও ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থের শংকরদহ কালভার্টের অ্যাপ্রোচ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে লোকজনের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তারা নৌকায় চলাচল করছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী পারভেজ নেওয়াজ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা জিও ব্যাগ ফেলে সেতুটি রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করছি।’ তিনি আরও জানান, ‘দ্বিতীয় তিস্তা সড়কটির সংযোগ সড়কের শংকরদহ কালভার্ট সেতুটির উজানে গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা এলাকায় তিস্তা নদীর বাম তীরে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হুমায়ুন বাঁধ নামে একটি বাঁধ গত বন্যায় ভেঙে যায়। ওই বন্যায় শংকরদহ হয়ে পানি ঢুকে পড়ে কালভার্টটির অ্যাপ্রোচের কিছু অংশ ভেঙে যায়। গত কয়েক দিনে ভারতের বন্যার পানি তিস্তা দিয়ে ঢুকে আবারও বন্যার পানির স্রোতে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’
লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম জাকিউর রহমান বলেন, ‘গত বন্যায় গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষীটারী ও কোলকোন্দ ইউনিয়নে বিনবিনা এলাকায় হুমায়ুন নামের একটি বাঁধ ভেঙে তিস্তার পানি ঢুকে পড়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মনে হচ্ছে বাঁধটি নির্মাণ করা না গেলে এই সেতুটি ও সড়কটি রক্ষা করা সম্ভব হবে না। কেননা তিস্তা নদীর বেশিরভাগ পানিই এখন শংকরদহ কালভার্টটির নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’
বর্তমানে লালমনিরহাট-রংপুর সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর উদ্বোধন আগামী ১৬ তারিখে করা হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু মূল সেতুর কোনও সমস্যা নেই তাই সেটি উদ্বোধন করা হবে।’ তবে লোকজনই যেহেতু চলাচল করতে পারবে না, যানবাহন চলাচল করতে পারবে না সেহেতু উদ্বোধন করে কী হবে- জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ‘শংকরদহ সেতুর অ্যাপ্রোচ নির্মাণ করলেই রাস্তাটি চালু করা সম্ভব হবে।’
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। তবে রংপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ভিডিও কনফারেন্সে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুটির উদ্বোধন করবেন।’








