ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’: চট্টগ্রাম বন্দরের সব জাহাজ বহির্নোঙরে, তিনটি কন্ট্রোল রুম

Send
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ১২:২৯, মে ০২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩৭, মে ০২, ২০১৯

চট্টগ্রাম বন্দরবঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বাড়তি সর্তকতা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বন্দরের কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়ছেন বন্দরের সদস্য সচিব ওমর ফারুক।

বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি জানিয়েছেন, ‘ঘুর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় আমরা জেটিতে থাকা সব জাহাজকে বহির্নোঙরে পাঠিয়ে দিয়েছি। ইকুয়েপমেন্টগুলোর সেফটি নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এছাড়া বন্দর হাসপাতালে জনবল বাড়ানো এবং জেটির অভ্যন্তরে অ্যাম্বুলেন্স রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’চট্টগ্রাম বন্দর

এদিকে জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ফণীকে কেন্দ্র সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দেলোয়ার হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবিলায় গতকাল বুধবার বিকালে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ সভা ডাকা হয়েছিল। সেখানে দুর্যোগ মোকাবিলায় সব সংস্থাকে প্রস্তুত থাকার জন্য বলা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম জেলার উপকূলীয় উপজেলাসহ সব উপজেলার ইউএনওকে আশ্রয়কেন্দ্র, শুকনো খাবার, স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্যোগের সময় যাতে মানুষকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় এ জন্য অ্যাম্বুলেন্স এবং হাসপাতালগুলোতে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য, আবহাওয়া বিভাগের সতর্ক বার্তায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলাগুলো এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোয় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।



 

/এফএস/

লাইভ

টপ