দার্জিলিং পর্যন্ত রেল সংযোগ: পুরোদমে কাজ চলছে চিলাহাটি অংশে

Send
তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী
প্রকাশিত : ১৫:১৪, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫৬, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯

চিলাহাটিনীলফামারীর চিলাহাটি হয়ে ভারতের হলদিবাড়ীর সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগের দৃশ্যমান তৎপরতা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ অংশে রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর এই রেললাইন নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। রেল রুটটি চালু হলে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ট্রেনে করে দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি পর্যন্ত যাওয়া যাবে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি রেলঘুন্টি এলাকার তিনটি রেল সংযোগ লাইনের জন্য মাটি ফেলে লেবেল করে রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়। সূত্র জানায়, উভয় দেশের ১১ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার রেললাইনের মধ্যে বাংলাদেশ অংশের প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার রেললাইন পড়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের হয়ে এই রেললাইন তৈরির কাজ করছে ম্যাক্স ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। রেলপথটি নির্মাণের কাজ ২০২১ সালের জানুয়ারির মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।চিলাহাটিতে রেল লাইন নির্মাণের কাজ চলছে

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) মো. জয়দুল ইসলাম জানান, ১৮৭০ সালে, অর্থাৎ ১৪৯ বছর আগে ব্রিটিশরা সৈয়দপুর শহরে ১১০ একর জমির ওপর রেলওয়ে কারখানা প্রতিষ্ঠা করে। এই দেশের সম্পদ আহরণ ও যোগাযোগের স্বার্থে তারা দেশের সর্ববৃহৎ রেলওয়ে কারখানা নির্মাণ করে এবং এই রেলপথ সৃষ্টি করে। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পরও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নীলফামারীর চিলাহাটি ও হলদিবাড়ীর মধ্যে ট্রেন যোগাযোগ ছিল। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত ভরতের হলদিবাড়ীর সঙ্গে পাকিস্তানের রেল যোগাযোগ ছিল। ওই সময় দার্জিলিং মেইল ট্রেনটি তখনও এই পথে দর্শনা হয়ে যাতায়াত করতো। চিলাহাটি-হলদিবাড়ীর ট্রেন যোগাযোগের কথা এখনও মানুষের মুখে মুখে রয়েছে।

জানা যায়, ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরের সময় এই পরিত্যক্ত রেলপথটি আবার চালুর উদ্যোগ ও পুনঃস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে ৮ মে থেকে সপ্তাহব্যাপী নীলফামারীর চিলাহাটির অংশে এবং ২০১৭ সালের গোড়ার দিকে ভারতের অংশের জরিপ কাজ হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসে দীর্ঘ পাঁচ দশক বন্ধ থাকা চিলাহাটি-হলদিবাড়ী পরিত্যক্ত রেলপথ পুনরায় স্থাপন হতে যাচ্ছে।

ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে প্রকল্পের বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা ২০১৮ সালের একনেকের সভায় বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাড়ে সাত কিলোমিটার রেলপথ, ছয়টি ব্রিজ ও চিলাহাটি রেলস্টেশনকে আন্তর্জাতিক মানের স্টেশনে রূপান্তরের কাজ করা হবে।

উত্তরাঞ্চল রেলওয়ে সূত্র জানায়, খুলনার মোংলা, ঢাকা ও রাজশাহী থেকে সরাসরি ব্রডগেজের রেলপথ চালু রয়েছে নীলফামারী চিলাহাটি সীমান্তের স্টেশন পর্যন্ত। এটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে ভারতের হলদিবাড়ী হয়ে জলপাইগুড়ি নিউজলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়ির সঙ্গে ফের সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হবে। সেই সঙ্গে ঢাকা নিউজলপাইগুড়ি (শিলিগুড়ি) ট্রেন চলাচল করবে সরাসরি।

উত্তরাঞ্চল রেলওয়ের চিফ ইঞ্জিনিয়ার আল ফাত্তা মো. মাসুদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রায় ৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চিলাহাটি-হলদিবাড়ীর রেল সংযোগের কাজ শুরু হয়েছে। এটি নির্ধারিত সময় ২০২১ সালের মধ্যেই শেষ হবে বলে আমরা আশা করছি।’হলদিবাড়ি

দুই দেশের সেতুবন্ধন রেলপথটি তৈরির কাজ শুরু হওয়ায় উত্তরের জনপথ নীলফামারী জেলার মানুষ খুশি। চিলাহাটি বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুবাইত হোসেন বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু হলে এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে যাবে।’

নীলফামারী চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী এসএম শফিকুল আলম বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের ব্যবসা বাণিজ্যসহ দুই দেশের সেতুবন্ধন তৈরি হবে। সেই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল, ভুটানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরালো হবে।’

নীলফামারী-১ আসনের (ডোমার-ডিমলা) সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার বলেন, ‘আগামী ২১ সেপ্টেম্বর রেললাইন নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। এই রেল সংযোগ পুনঃস্থাপনের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সেতুবন্ধন তৈরি হবে। ভারতের হলদিবাড়ী হয়ে জলপাইগুড়ি নিউ জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়ির সঙ্গে আমরা সরাসরি ট্রেনে যাতায়াত করতে পারবো। সেই সঙ্গে ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি (শিলিগুড়ি) রুটে সরাসরি ট্রেন চলাচল করবে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অংশের কাজ মাত্র শুরু হলেও হলদিবাড়ীর অংশ চার দশমিক ৩৪ কিলোমিটার রেলপথ স্থাপনের কাজ ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর শুরু করে ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ শেষ হয়। এখন চলছে ভারতের হলদিবাড়ী রেলস্টেশনটিকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার কাজ। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পে ৩১ কোটি রুপি বরাদ্দ দেয়। ভারতের অংশের নতুন স্থাপিত রেললাইনে বাংলাদেশের চিলাহাটি ডাঙাপাড়া সীমান্ত বিপি ৭৮২/২ এস নম্বর পিলার পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে রেলের ইঞ্জিনও চালানো হয়েছে।

/এফএস/এমএমজে/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ