রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন হওয়া মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের কুলখানিতে অংশ নিয়ে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহার চেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। রবিবার (২৭ অক্টোবর) তারা এই দাবি জানিয়েছেন। দিনাজপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর আউলিয়াপুর ইউনিয়নের যোগীবাড়ী গ্রামে তার মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও কুলখানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দিনাজপুর জেলা ইউনিট কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার সাইদুর রহমান বলেন, ‘এসিল্যান্ডকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি ও জেলা প্রশাসককে ত্বরিত এখান থেকে প্রত্যাহার করা হোক। তিনি (ডিসি) যেন আর ওই ধরনের চেয়ারে বসতে না পারেন। মুক্তিযোদ্ধাদের কারণেই তিনি ওই চেয়ারে বসতে পেরেছেন। সোমবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসক চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতির সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করা হবে। জেলা প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে দেখা করেননি আর এসিল্যান্ড একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে দিয়ে বাড়ির কাজ করিয়েছেন। এ ঘটনায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।’
সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আকবর আলী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের ওপর অন্যায় অত্যাচার করা হয়েছে। তাকে দিয়ে সুইপারের মতো কাজ করানো হয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা কেন নিতে চাননি? কারণ, জেলা প্রশাসক তার সঙ্গে দেখা করেননি। এটি চাট্টিখানি কথা নয়। মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি, ইসমাইল হোসেন মনে আঘাত পেয়েছেন এবং পরে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। আমরা এর ন্যায্যবিচার দাবি করছি এবং ডিসি ও এসিল্যান্ডকে পদচ্যুত করার দাবি রাখছি।’
মুক্তিযোদ্ধা মকসুদ আলীর দাবি, ঘটনার তদন্ত করে ডিসিকে ওএসডি করা হোক।
উল্লেখ্য, ছেলেকে চাকরিচ্যুত করার ক্ষোভে দাফনের সময় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা চাননি অভিমানী মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন। মৃত্যুর দুই দিন আগে নিজের ক্ষোভ-দুঃখের কথাগুলো লিখে রেখে যান স্বজনদের কাছে। বুধবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় মারা গেলে পরদিন বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) ইসমাইল হোসেনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন করা হয়। এই বীর মুক্তিযোদ্ধা শেষ বিদায় নেন প্রশাসনের স্যালুট ও বিউগলের করুণ সুর ছাড়াই। এ ঘটনায় বিভাগীয় কমিশনার গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের কাজ শুরু হয়েছে। শনিবার (২৬ অক্টোবর) মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে এসে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) জাকির হোসেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সরকার সচেতন। তদন্তে যারা দোষী প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মুক্তিযোদ্ধার ছেলে নূর ইসলাম।
আরও খবর...
ডিসির দেওয়া চাকরি নেবেন না অভিমানী সেই মুক্তিযোদ্ধার ছেলে
‘শেষ ইচ্ছা’য় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন!








