বরগুনায় ৩ দিন বিদ্যুৎ নেই

Send
সুমন সিকদার, বরগুনা
প্রকাশিত : ২৩:৪৩, নভেম্বর ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫৮, নভেম্বর ১১, ২০১৯





বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছেঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় টানা তিন দিন বরগুনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। একইসঙ্গে বন্ধ আছে পৌর এলাকায় পানি সরবরাহ। জরুরি সেবাসহ মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদ্যুতের অভাবে চিকিৎসা সেবাও বন্ধ রয়েছে। বরফ কলগুলো বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

সোমবার (১১ নভেম্বর) বরগুনা পৌর এলাকাসহ সদর উপজেলার খাজুরতলা, লাকুরতলা, ধূপতি হেউলিবুনিয়া, নলী, পরীরখাল, গৌরিচন্না, ফুলঝুড়ি, বাওয়ালকারসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ের কারণে গাছ পড়ে ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) সূত্রে জানা গেছে, ৬৫ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে।
জরুরি প্রয়োজনে মুঠোফোন চার্জ দিতে না পারায় দুর্যোগে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না অনেকেইে। কারও কারও ফোনে বিকল্প পদ্ধতিতে চার্জের ব্যবস্থা করতে পারলেও বিদ্যুৎ না থাকায় দেখা দিয়েছে নেটওয়ার্ক বিভ্রাট। কখনও কখনও নেটওয়ার্ক পাওয়াই যাচ্ছে না।
বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছেবরগুনার বাজারে মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ করতে না পারায় কম মূল্যে বিক্রি করে দিতে হচ্ছে মাছ। একই অবস্থা দেশের বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বরগুনার পাথরঘাটায়। ইজিবাইক চালকরা তাদের রিকশায় চার্জ দিতে পারছেন না। এতে রিকশা কম চলাচল করায় যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারীরা।
বরগুনার নয়াকাটা এলাকার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকার কারণে আমাদের দৈননিন্দন কাজে ব্যাপক অসুবিধা হচ্ছে। রাজধানীতে থাকা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। দুর্যোগের পর আমদের মতো তারাও দুশ্চিন্তায় রয়েছে।’

দক্ষিণ খাজুরতলা গ্রামের পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক বাদল বিশ্বাস বলেন, ‘বুলবুলের আঘাতে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই দুই থেকে তিনটি গাছ ভেঙে গেছে। বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে গ্রাম। আমরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাড়ির সামনের গাছ সরিয়ে লাইনটি ক্লিয়ার করে দিয়েছি।’
বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছেবরগুনা ডিকেপি রোডের বাসিন্দা নাসরিন জাহান বলেন, ‘শনিবার রাত থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পানির অভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় কাজ করতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পড়তে হচ্ছে মারাত্মক ভোগান্তিতে।’
বরগুনা পৌরসভার মেয়র মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুতের অভাবে পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌর বাসন্দিরা। এছাড়া মুঠোফোনের নেটওয়ার্কও বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে দূরবর্তী ও প্রবাসীদের সঙ্গে স্বজরা কথা বলতে পারছেন না। ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে।’
জানতে চাইলে বরগুনা বিদ্যুৎ সরবরাহ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ বলেন, ‘বুলবুলের আঘাতে ৬৫ কিলোমিটার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ ক্ষতিগ্রস্ত লাইনের মেরামত করে আজ রাতের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবারহ করা হবে বলেও তিনি জানান।
ইউসুফ আরও বলেন, ‘আমরা দুর্যোগের আগে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যাওয়ায় গাছ পড়ে সঞ্চালন লাইনের ক্ষতি হয়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।’

 

 

/আইএ/

লাইভ

টপ