একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও ভর্তিই অনিশ্চিত!

Send
আরিফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত : ২০:১০, নভেম্বর ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:০৬, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

মায়ের সাথে বাড়ির উঠানে অনিক মিয়া (ছবি– প্রতিনিধি)ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন অনিক মিয়া। জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অপেক্ষমাণ তালিকায় আছেন তিনি। অথচ টাকার অভাবে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

অনিক মিয়া কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের তালুক শিমুলবাড়ী গ্রামের দিনমজুর আব্দুস ছালামের ছেলে। তার মায়ের নাম রেনুকা বেগম। তিন ভাইয়ের মধ্যে অনিক বড়। ছোট দুই ভাই পঞ্চম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। একমাত্র বোনের বিয়ে হয়েছে পাঁচ বছর আগে।

অনিক মিয়া জানান, তার স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন বোধহয় পূরণ হবে না। কারণ, বাবার পক্ষে তার ও দুই ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ চালানো কঠিন। তার বাবা আব্দুস ছালাম ঢাকায় একটি রাইস মিলে শ্রমিকের কাজ করেন।

২০১৭ সালে শিমুলবাড়ীর মিয়াপাড়া নাজিমউদ্দিন বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপি ৪.৭৩ এবং ২০১৯ সালে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে মানবিকী বিভাগে এইচএসসিতে জিপি ৪.৪২ পান অনিক। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধারদেনা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। এরইমধ্যে ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগও পেয়েছেন। জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন। তবে অনিকের স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার।

অনিক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু আমার স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। তবে এখনও ভর্তির টাকা জোগাড় করতে পারিনি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিসহ শহরে থাকা ও পড়াশোনার খরচ কীভাবে তার পরিবার জোগান দেবে, এই চিন্তায় উদ্বিগ্ন অনিক।

অনিক বলেন, ‘আমার বাবার তেমন আয় নেই। তিনি সামান্য দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান। জানি না বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবো কিনা। কী করবো বুঝতে পারছি না।’

মা রেনুকা বেগম বলেন, ‘ টাকা না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে আমার ছেলের। ভিটেবাড়ি ছাড়া কোনও সম্পদ নেই আমাদের। অভাবের কারণে ছেলের পড়াশোনা চালাতে পারবো কিনা জানি না।’

মোবাইল ফোনে কথা হয় অনিকের বাবা আব্দুস ছালামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ পরিবারের খরচ জোগাতে ঢাকায় একটি রাইস মিলে কাজ করি। যে টাকা পাই তাতে সংসারই ঠিকমতো চলে না। অনিককে কীভাবে ঢাকায় পড়াবো? তার খরচ জোগাড় করা আমার পক্ষে অসম্ভব।’

অনিকের ভর্তির বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন থেকে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা আরেফীন বলেন, ‘ এ বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। পরিবারের কেউ যোগাযোগ করলে তার ভর্তির ব্যাপারে সহায়তা করা হবে।’

 

 

/এমএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ