ছড়িয়ে পড়ছে গরুর ‘লাম্পি স্কিন’ রোগ

Send
আহাদ চৌধুরী তুহিন, ভোলা
প্রকাশিত : ১৭:০৪, নভেম্বর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৫, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

ভোলা জেলায় হাজার হাজার গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে কোনও উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে এই রোগের ভ্যাকসিন না থাকায় তা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

ভোলা সদরের চরসামাইয়া এলাকার গরু খামারি মো. সাহাবুদ্দিন জানান, প্রথমে গরুর চামড়ার উপরিভাগে টিউমারের মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। পরে তা পক্সের (বসন্ত) মতো গুটি গুটি হয়ে গরুর শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ছে। এরপর কয়েকদিনের মধ্যে তা বড় হয়ে ফেটে গিয়ে ঘা সৃষ্টি করছে। রোগাক্রান্ত গরু কিছু খায় না।

তিনি আরও জানান, ভোলার প্রাণিসম্পদ অফিসে গেলে তারা গরুকে মশারি দিয়ে রাখতে বলেন এবং বেশি করে পানি আর ভাতের মাড় খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। গরুর জ্বরের জন্যে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খাওয়াতে বলেন।

ভোলা জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইন্দজিত কুমার মণ্ডল জানান, বিষয়টি সরকারের নজরে আনা হলে লাইভস্টোক রিসার্চ ইনস্টিটিউটকে এর প্রতিষেধক ভ্যাকসিন তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এটি একটি ভাইরাল রোগ। আক্রান্ত গরু প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হয় এবং খাবার রুচি কমে যায়। জ্বরের সঙ্গে মুখ দিয়ে এবং নাক দিয়ে লালা বের হয়। পা ফুলে যায়। শরীরের বিভিন্ন জায়গা চামড়া পিণ্ড আকৃতি ধারণ করে, লোম উঠে যায় এবং ক্ষত সৃষ্টি হয়।

এই রোগ এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়ার প্রধান মাধ্যম হচ্ছে  এডিস মশা ও মাছি। গরুর লালা থেকেও ছড়ায়। আক্রান্ত গাভী থেকে বাছুর দুধ পান করলে সেই বাছুরও আক্রান্ত হতে পারে।

আক্রান্ত গরুকে যে সিরিঞ্জ দিয়ে ইনজেকশন দেওয়া হয়, সেটি দিয়ে সুস্থ গরুকে ইনজেকশন দিলেও ছড়াতে পারে। খামারে কাজ করা মানুষের পোশাকের মাধ্যমেও এই ভাইরাস অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ভাইরাস আক্রান্ত ষাঁড়ের সিমেন এই রোগের অন্যতম বাহন।

১৫ নভেম্বর ‌পর্যন্ত প্রাণিসম্পদ বিভাগ জেলায় ৩০১টি আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা পরামর্শ দিয়েছে বলেও জানান ভোলা জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইন্দজিত কুমার মণ্ডল।

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ