হাকালুকি হাওরকে রামসার সাইট ঘোষণার প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত

Send
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৯:৪৮, নভেম্বর ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৯, নভেম্বর ২৩, ২০১৯

হাকালুকি হাওরকে রামসার সাইট হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব প্রেরণের সিদ্ধান্ত- কর্মশালাএশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি হাওরকে রামসার সাইট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।  স্থানীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে এক কর্মশালায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) দিনব্যাপী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক হোটেলে এই কর্মশালা অনুষ্টিত হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. এ কে এম রফিক আহাম্মদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল্লাহ আল মোহসীর চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এস এম মনজুরুল হান্নান খান। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক বেগম নাজিয়া শিরিন এবং হাকালুকি হাওর তীরের কুলাউড়া, জুড়ি, বড়লেখা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বড়লেখা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মৎস্য অফিসার, কৃষি অফিসার ও উপজেলা প্রকৌশলীরা।

কুলাউড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাকালুকি হাওরের প্রয়োজনীয় সব তথ্য রামসার সচিবালয়ের চাহিদা অনুসারে নির্ধারিত ছকে পূরণ করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর হাওরকে রামসার সাইট ঘোষণার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে।’হাকালুকি হাওর

প্রসঙ্গত,২০০০ সালে দেশের অন্যতম সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরও রামসার সাইটের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এবার হাকালুকি হাওর রামসার সাইটের অন্তর্ভুক্ত হলে মৎস্য অভয়াশ্রম, পাখির অভয়াশ্রম, উদ্ভিদ ও জলাভূমি সংরক্ষণে কাজ হবে করা সহজ হবে।

মৌলভীবাজারে পাঁচটি উপজেলায় ছড়িয়ে আছে হাকালুকি হাওর। ছোট-বড় ২৪০টি বিল নিয়ে হাওরের মোট আয়তন ১৮ হাজার হেক্টর। এই হাওরে বাংলাদেশের মোট জলজ উদ্ভিদের অর্ধেকের বেশি এবং সঙ্কটাপন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি পাওয়া যায়।

রামসার কনভেনশন হলো বিশ্বব্যাপী জৈবপরিবেশ রক্ষার একটি সম্মিলিত প্রয়াস। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ইরানের রামসারে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ কনভেনশন অন ওয়েটল্যান্ডস নামক একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি হিসেবে বিভিন্ন জলাভূমিকে তালিকাভুক্ত করা হয়।

 

/এফএস/

লাইভ

টপ