কুড়িগ্রামে বিজয়ের পতাকা উড়েছিল আজ

Send
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৪:১৭, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:১৪, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯

বিজয় স্তম্ভআজ ৬ ডিসেম্বর, উত্তরের জনপদ কুড়িগ্রাম হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে কুড়িগ্রামকে পাক হানাদারমুক্ত করেন। এ অঞ্চলে সেদিন উদিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলার পতাকা। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কুড়িগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ড এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠন সম্মিলিতভাবে কর্মসূচি পালন করেছে। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টায় জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর থেকে একটি র‌্যালি বের হয়। এছাড়া বিজয় স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই দিনে মুক্তিবাহিনীর কে ওয়ান এফএফ কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল হাই সরকারের (বীর প্রতীক) নেতৃত্বে ৩৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি দল বিকাল চারটা দিকে কুড়িগ্রাম শহরে প্রথম প্রবেশ করেন। এরপর তারা নতুন শহরের ওভার হেড পানির ট্যাংকের ওপরে (বর্তমান সদর থানার উত্তরে অবস্থিত) স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে চারিদিকে ছড়িয়ে দেন বিজয়বার্তা। সেদিন বিজয় মিছিলে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাগত জানাতে হাজারও মুক্তিকামী মানুষ রাস্তায় নামেন। ২৩০ দিন পাক হানাদার বাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত হয় কুড়িগ্রাম।
কুড়িগ্রাম হানাদারমুক্ত দিবস উপলক্ষে র‌্যালিজেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কুড়িগ্রাম জেলার মানুষের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। ১৯৭১ সালে কুড়িগ্রাম জেলা ছিল আটটি থানা নিয়ে গঠিত একটি মহকুমা। ১৯৭১ সালের ১০ মার্চ মহকুমা সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়। ১৭ মার্চ স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতারা চিলড্রেন পার্কে আনুষ্ঠানিকভাবে মানচিত্র আঁকা স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন। ২৫ মার্চের কালরাতের পর সংগ্রাম কমিটি ২৮ মার্চ গওহর পার্ক ময়দানে জনসভা করার পর বেসরকারি হাইকমান্ড গঠন করে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করে।
৩০ মার্চ রংপুরে ইপিআর উইংয়ের সহকারী অধিনায়ক ক্যাপ্টেন নওয়াজেশ উদ্দিন কিছু মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে কুড়িগ্রামে আসেন। তারই নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ১ এপ্রিল থেকে তিস্তা নদীর পূর্বপাড়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ৪ এপ্রিল পাকবাহিনী দালালদের সহযোগিতায় তিস্তা নদী পার হয়ে লালমানিরহাট দখল করে নেয়। এরপর পাক বাহিনী ৭ এপ্রিল এবং ১৪ এপ্রিল দু’বার কুড়িগ্রাম দখলে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০ এপ্রিল কুড়িগ্রাম শহর দখল করে নেয়। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হয়ে জুলাই মাস থেকে গেরিলা যুদ্ধ করে। পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে পরিচালনা করতে থাকে একের পর এক সফল অভিযান।
১৩ নভেম্বর উলিপুরের হাতিয়ায় পাকবাহিনী চালায় নৃশংস গণহত্যা। এদিন পাকবাহিনী পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধাসহ ৭৩৪ জন নিরীহ মানুষকে দাগারকুটি বধ্যভূমিতে জড়ো করে হত্যা করে। ১৪ নভেম্বর থেকে মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীর ওপর প্রচণ্ড আক্রমণ চালিয়ে জেলার ভূরুঙ্গামারী, ২৮ নভেম্বর নাগেশ্বরী, ৩০ নভেম্বর সমগ্র উত্তর ধরলা এবং ৬ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম শহরসহ সমগ্র জেলা হানাদারমুক্ত করেন। এদিন পাক সেনারা দুপুর নাগাদ রেলপথে কুড়িগ্রাম ত্যাগ করে।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কুড়িগ্রাম জেলার অর্ধেক অংশ ছিল ৬ নম্বর সেক্টর এবং বাকী অংশ ছিল ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে। শুধুমাত্র ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন রৌমারী থানা ছিল মুক্তাঞ্চল। সেখানেই চলতো মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ। কুড়িগ্রামকে হানাদারমুক্ত করতে শহীদ হন ৯৯ জন মুক্তিযোদ্ধা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ লাল জানান, ‘গোটা দেশ একদিনে স্বাধীন হয়নি। বিভিন্ন দিন বিভিন্ন অঞ্চল হানাদারমুক্ত হয়েছে।

 

 

/ওআর/

লাইভ

টপ