এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অনিয়মের অভিযোগ

Send
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:৩৫, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৯, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯

পৌর প্রিপ্যারেটরি উচ্চ বিদ্যালয়কক্সবাজার শহরের পৌর প্রিপ্যারেটরি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া নিয়ম না মেনে ফরম বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম করে যাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক।

একজন অভিভাবক বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী টেস্ট পরীক্ষায় একাধিক বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীরা মূল পরীক্ষার (এসএসসি) ফরম পূরণ করতে পারবে না। কিন্তু এ নির্দেশ না মেনে টাকার বিনিময়ে প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম একাধিক বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের মূল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। এ জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হেচ্ছে। এভাবে সম্প্রতি ২৮ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। একইভাবে রেজাল্ট শিট দেওয়ার কথা বলেও শতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। অথচ এখনও কোনও শিক্ষার্থীকে শিট দেখানো হয়নি।’
ছেলেকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হবে না এই ভয়ে এক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার ছেলে টেস্ট পরীক্ষায় দুই বিষয়ে ফেল করেছে। দুই বিষয়ে পাস দেখাতে ২০ হাজার টাকা দিয়েছি।’
একই অভিযোগ আরেক অভিভাবকের। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আলাপ করেছি। শিক্ষক বলেছেন টাকাগুলো চট্টগ্রাম শিক্ষা অফিসের এক কর্মকর্তাকে দিতে হবে। টাকা না দিলে ছেলে পরীক্ষা দিতে পারবে না।’
জানা যায়, গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত জেএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বোর্ড নির্ধারিত পরীক্ষার ফি বাবদ ১০০ টাকা এবং কেন্দ্র ফি বাবদ ১৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। পরে প্রবেশপত্র দেওয়ার সময় কেন্দ্র ফি বাবদ ৩০৭ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৫০ টাকা করে মোট ৪৬, ০৫০ টাকা নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কোনও শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়া হয়নি। সুষ্ঠুভাবে টেস্ট পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ফেল করা কোনও শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করতে দেওয়া হয়নি। এটি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।’
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, ‘কোনও অভিভাবক বা শিক্ষার্থী এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/আইএ/

লাইভ

টপ