রেজিস্ট্রেশন বিহীন সিএনজি ও থ্রি হুইলারে সয়লাব খাগড়াছড়ি

Send
জসিম মজুমদার, খাগড়াছড়ি
প্রকাশিত : ১০:০৬, জানুয়ারি ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৪, জানুয়ারি ২৭, ২০২০

খাগড়াছড়িতে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই চলছে সিএনজি ও থ্রি হুইলার মাহিন্দ্র। এর ফলে একদিকে সড়কে দুর্ঘটনা যেমন বাড়ছে, তেমনি সরকারও বঞ্চিত হতে রাজস্ব আদায় থেকে। ট্রাফিক পুলিশের সামনেই এসব গাড়ি চলাচল করলেও অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থ্যা নিচ্ছে না পুলিশ।
জানা গেছে, জেলার নয় আন্তঃ উপজেলা সড়কের পাশাপাশি আন্তঃ ইউনিয়ন, আন্তঃ ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ে কমপক্ষে ১০০ সড়ক রয়েছে। এসব সড়কে কমপক্ষে প্রায় ১০ হাজার সিএনজি ও মাহিন্দ্র গাড়ি চলে। কিন্তু নিবন্ধিত সিএনজি ও থ্রি হুইলারের সংখ্যা মাত্র ৩৫০টি। বাকিগুলোর রেজিস্ট্রেশন নেই।
প্রতিদিন স্থানীয় লোকজনসহ পর্যটক পরিবহনে ব্যবহার হওয়া এসব গাড়ি বৈধ না চোরাই-সেই হিসাবও নেই পরিবহন মালিক সমিতি, পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে। যাত্রীদের জিম্মি করে ভাড়া আদায়, সড়কে দুর্ঘটনা অথবা নানা বেআইনি কার্যক্রমে এসব পরিবহন ব্যবহার হলেও নেই আইনানুগ ব্যবস্থা। ভুক্তভোগীদের নানা অভিযোগ থাকলেও নেই প্রতিকার। এছাড়া পুলিশের টোকেনে এসব গাড়ি চললেও পুলিশ তা অস্বীকার করছে।
খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলার জামতলী এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন জানান, কিছু দিন আগে তিনি সিএনজি দুর্ঘটনায় পড়েছেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে গেছেন। সুস্থ হয়ে থানায় মামলায় করতে গেলে থানা গাড়ি নাম্বার না থাকায় মামলা নেননি। গাড়ির যদি রেজিস্ট্রেশান নাম্বার না থাকে, তাহলে শনাক্ত করা সম্ভব নয়। সব হালকা যানবাহন রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
ঢাকা থেকে আসা তিন পর্যটক হাসিব রহমান, মিজানুর রহমান ও ফোরকান হোসেন জানান, তারা সাজেকে একটি সিএনজি দিয়ে যাওয়া-আসা করতে আট হাজার টাকা ভাড়া দিয়েছে। এই ভাড়া নির্ধারণ করেছে সিএনজি মালিক সমিতি। কিন্তু এসব পরিবহনের রেজিস্ট্রেশন নাম্বারও নেই, চালকদের লাইসেন্স থাকা নিয়েও সন্দেহ আছে। এসব পরিবহন ও চালকদের হাতে জিম্মি পর্যটকরা। ৬৭/৭০ কিলোমিটার যাওয়া –আসায় ভাড়া আট হাজার টাকা বাংলাদেশের আর কোথাও নেই। অনিবন্ধিত এসব সিএনজি ও চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

রেজিস্ট্রেশন বিহীন খাগড়াছড়ি সিএনজি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা বিআরটিএ’তে একাধিকবার গিয়ে হয়রানির স্বীকার হওয়ায় এসব সিএনজি কিংবা থ্রি হুইলার মাহিন্দ্র হালকা যানবাহনগুলোর রেজিস্ট্রেশন করাতে পারেনি।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশকে জানিয়েই টোকেনের মাধ্যমে এসব যানবাহন চলছে।
খাগড়াছড়ি বিআরটিএ’র উপরিচালক প্রদীপ কুমার দেব বলেন, ‘এসব যানবাহনগুলোর অধিকাংশরই ফিটনেছ, চালকদেরও লাইসেন্স নেই, যার ফলে তারা রেজিস্ট্রেশন করতে বিআরটিএতে আসতে পারছে না।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সড়ক কিংবা মহাসড়কে এসব রেজিস্ট্রেশনবিহীন হালকা যানবাহন ট্রাফিক পুলিশের মুখোমুখি হলে সমিতির নেতাদের মাধ্যমে ছাড় পেয়ে যায়।’
খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ প্রশাসনের প্রধান পুলিশ সুপার এসপি আব্দুল আজিজ বলেন, ‘নতুন সড়ক আইনে এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত মামলা না করার নিদের্শনা রয়েছে। তারপরও পুলিশ প্রশাসন হালকা যানবাহন মালিক ও চালকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে যাচ্ছে। কোনও যানবাহন ও চালকের যদি আইনানুগ অনুমতি না থাকে তাহলে তাদের সড়কে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পুলিশ টোকেনের মাধ্যমে টাকা নিয়ে এসব গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।’
জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘এ জেলায় রেজিস্ট্রেশন ছাড়া সিএনজি কিংবা থ্রি হুইলার মাহিন্দ্র চলাচল করার কোনও সুযোগ নেই। অচিরেই জেলা প্রশাসন এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনতে বাধ্য করবে।’

/এআর/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ