নিয়োগের ১৯ দিনের মধ্যে সিভিল সার্জন বদলি

Send
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৪:৫০, জানুয়ারি ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪৮, জানুয়ারি ২৯, ২০২০

ডা. তউহীদ আহমদ

নিয়োগের ১৯ দিনের মধ্যে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. তউহীদ আহমদকে বদলি করেছে কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্যসেবার মনোন্নয়নে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাকে কোনও কুচক্রী মহল বদলি করিয়েছেন বরে ধারণা স্থানীয়দের।  

জানা যায়, ৯ জানুয়ারি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলজে হাসপাতাল থেকে তাকে সুনামগঞ্জর সিভিল সার্জন হিসেবে পদায়ন করা হয়। এরপর ২৮ জানুয়ারি তাকে আবার মৌলভীবাজার জেলার সিভিল সার্জন হিসেবে বদলি করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, সুনামগঞ্জে সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদানের পর তিনি সদর হাসপাতালসহ জেলার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের বেশকিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। চিকিৎসক সংকটের পরও সদর হাসপাতালে সেবার মান বৃদ্ধির জন্য অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কিন্তু স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তাকে বদলি করায় মানুষ আশাহত হয়। তার বদলির প্রতিবাদে শহরের হাছননগর এলাকায় অফিসের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয়রা। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বলেন, ‘তউহীদ আহমদ যোগদানের পর বলেছিলেন- আমি আমার বাবার টিউশনির টাকায় লেখাপড়া করে ডাক্তার হয়েছি। নিজে কোনও অনিয়ম করবো না, অনিয়ম সহ্যও করবো না। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। তার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কারণে স্বাস্থ্যসেবায় সাধারণ মানুষের আশার সঞ্চার হয়েছিল।’ এতো দ্রুত তাকে বদলি করার মধ্যে কোনও কারসাজি রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

হাওর বাঁচাও আন্দোলন-এর সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, ‘একজন প্রতিশ্রুতিশীল সৎ মানুষকে দ্রুত বদলি করাকে আমরা ভালো মনে করি না। তিনি যোগদানের পর সদর হাসপাতালসহ স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুবাতাস বইতে শুরু করেছিল।’

সুনামগঞ্জ পৌর কলেজের অধ্যক্ষ ও সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেরগুল আহমদ বলেন, ‘সিভিল সার্জন যোগদানের পর বলেছিলেন, কোনও অনিয়ম দুনীতির বিরুদ্ধে আপোস করবো না। এটি হাসপাতালের একটি সিন্ডিকেটের স্বার্থে আঘাত করেছে। তাকে বদলি করে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা হয়নি, সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. তউহীদ আহমদ বলেন, ‘আমি চলতি মাসের ৯ তারিখে সুনামগঞ্জে যোগদান করেছি, আবার ২৮ তারিখে মৌলভীবাজার জেলায় বদলি হয়েছি। এটি সরকারি সিদ্ধান্ত। আমার বলার কিছু নেই। সরকারের আদেশ আমি পালন করেছি।’ 

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ