ট্রলারডুবিতে নিখোঁজদের খবর নিতে আসেনি কেউ

Send
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:২৯, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৩, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০

বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিনের কাছে গত ১১ ফেব্রুয়ারি ট্রলারডুবির পর উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোয় সক্রিয় মানব পাচারকারীদের ঠেকাতে পারছে না বাংলাদেশ। যে কারণে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয় নেওয়া এই জাতিগোষ্ঠীর ‘মালয়েশিয়াগামী ¯স্রোত’ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। সর্বশেষ গত ১১ ফেব্রুয়ারি সাগরপথে মালয়েশিয়া যাত্রাকালে সেন্টমার্টিন দ্বীপের কাছে বঙ্গোপসাগরে একটি ট্রলার ডুবে যায়। ওই ঘটনায় গত মঙ্গলবার থেকে এখন পর্ন্ত মোট ১৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ওই ট্রলারে থাকা নিখোঁজ যাত্রীদের বিষয়ে তাদের কোনও আত্মীয়স্বজন কোস্ট গার্ড কর্তৃপক্ষের কাছে খোঁজখবর নিতে আসেননি। ফলে সাগরে তাদের সলিল সমাধি হয়েছে নাকি তারা কোনোভাবে উদ্ধার হয়ে বেঁচে আছেন তা জানা যাচ্ছে না।  

জানতে চাইলে টেকনাফ কোস্ট গার্ডের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট রাহাত ইমতিয়াজ বলেন, ‘মর্মান্তিক এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ওই দিন ৭৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার রোহিঙ্গাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এখনও ৪৮ জনের খোঁজ মেলেনি।

তিনি আরও বলেন, ‘নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি নৌবাহিনীও এই উদ্ধার অভিযান সক্রিয় রয়েছে। তবে এখন জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম ।’

তিনি আরও জানান, যে ৪৮ জনকে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা সহযাত্রী ছিল ও নিখোঁজ রয়েছে বলে দাবি করেছেন তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিতে তাদের পরিবারের কোনও সদস্য আসেনি।

পুলিশ সূত্রে জানায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি সাগরপথে মালয়েশিয়া যাত্রাকালে সেন্টমার্টিন দ্বীপের কাছে  বঙ্গোপসাগরে একটি ট্রলারডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলায় মানবপাচারকারী হিসেবে ১৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে ৯ জন মানব পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার ১০৯ জন ভিকটিমকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী ও টেকনাফের বাহারছড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ লিয়াকত আলী জানান, ‘‘ট্রলারডুবির ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৭ মৃতদেহের মধ্যে ১১ জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ৬ জনের বেওয়ারিশভাবে দাফন করা হয়েছে। মানব পাচারকারীদের ধরতে জোরদার অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত ৯ জন মানব পাচারকারীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মালয়েশিয়াগামী ডুবে যাওয়া ট্রলারে কত জন যাত্রী ছিল তা জানা নেই। তাছাড়া নিখোঁজ আছে এমন কোনও পরিবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।’ 

মানবপাচারের বিরুদ্ধে প্রচারণা সত্ত্বেও সক্রিয় পাচারকারীরা

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনার পর কক্সবাজারের লেদা, জাদিমুরা ও শালবনসহ বিভিন্ন ক্যাম্পের মসজিদে মানবপাচারবিরোধী প্রচারণা চালিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা।

টেকনাফের লেদা ক্যাম্পের উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলম বলেন, ‘গতকাল থেকে মানবপাচার রোধে শিবিরে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। মসজিদের ইমামরা এ ব্যাপারে মুসল্লিদের সঙ্গে আলোচনা করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রলারডুবির ঘটনায় আমার ক্যাম্পের কয়েকটি ঘরে কান্নাকাটির খবর পেয়েছি। এ বিষয়ে তাদের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হলে তারা কিছু বলতে রাজি হয়নি। তার ধারণা, হয়তো ভয়ে কেউ কিছু বলছে না। ’

টেকনাফের শামলাপুর রোহিঙ্গা শিবিরের নেতা মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, ‘শুধু বিয়েই নয়, উন্নত জীবনের আশায়ও মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করছেন অনেকে। তবে এমন মৃত্যু খুবই দুঃখজনক। সাগর পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে আমার শিবির থেকে অনেক রোহিঙ্গা বের হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ধরা পড়লেও অনেকের কোনও খোজঁ-খবর নেই। তবে তারা সবাই গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন কিনা তা আমি নিশ্চিত নই।’

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার জানান, নিখোঁজের একটি তালিকা তৈরির চেষ্টা করছেন তারা। তবে সেটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। যাদের স্বজন নিখোঁজ হয়েছে তারা যদি নিখোঁজ ব্যক্তির নাম, ঠিকানা ক্যাম্প ইনচার্জকে জানাতেন তাহলে তাদের চিহ্নিত করা সহজ হতো। কিন্তু অনেকেই ভয়ে আসছেন না।’

 

/টিএন/

লাইভ

টপ