চলন্ত বাসে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চালকসহ গ্রেফতার ৩

Send
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৯:২২, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২৬, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০

গাজীপুরগাজীপুরে চলন্ত বাসে এক নারীকে (৩৫) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চালকসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে গাজীপুর মহানগরীর ঢাকা বাইপাস সড়কের ভোগড়া গরুকাটা ব্রিজের কাছে (পেয়ারা বাগান) এই ঘটনা ঘটে। পরে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নন্দলাল চৌধুরী এ তথ্য জানান।
গ্রেফতাররা হলো- বাসচালক শেরপুরের নকলা উপজেলার ধনাকুশ গ্রামের আমীর হোসেন (২৭), বাসের কন্ডাক্টর ইশিবপুর এলাকার অমিত শীল (২২) ও হেলপার ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ঠাকুরবাহাই এলাকার মোজাম্মেল (২৩)।
নন্দলাল চৌধুরী জানান, ওই নারী টঙ্গী থেকে গাজীপুর সদর উপজেলার মেম্বার বাড়ি এলাকায় গত বুধবার রাতে তার এক আত্মীয়ের বাড়ি যান। রাতেই ওই নারী মেম্বার বাড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে ইছামতি পরিবহনের একটি বাসে টঙ্গীর উদ্দেশে রওনা দেন। বাসটি মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তায় পৌঁছালে ৪/৫ নারী যাত্রীকে রেখে বাসচালক ও সহকারীরা বাস থেকে অন্যান্য যাত্রীদের নামিয়ে দেয়। পরে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে চালক বাসটি নিয়ে ভোগড়া বাইপাস মোড় যাওয়ার পর দুই নারী ছাড়া বাস থেকে অন্য যাত্রীদের নামিয়ে দেয় চালকের সহকারীরা। পরে ওই দুই নারী বাস থেকে নামার চেষ্টা করলেও চালকের সহযোগীরা তাদের ধাক্কা দিয়ে বাসের ভেতরে ঢুকিয়ে দ্রুত গতিতে ভোগড়া পেয়ারা বাগানের দিকে চলে যায়। পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে বাসটি ভোগড়া এলাকার গরুকাটা ব্রিজের কাছে পৌঁছালে বাসের দরজা বন্ধ করে দেয় তারা। এ সময় ওই দুই নারী চিৎকার দিলে তাদের হত্যার ভয় দেখিয়ে বাসের পেছনে নিয়ে বেঁধে রাখে চালক ও তার সহযোগীরা। রাত ১২টার দিকে তারা এক নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

বৃহস্পতিবার ভোরে গ্রেফতাররা বাস থেকে নেমে পালিয়ে যায়। পরে দুই নারীর ডাক-চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে বাসটি জব্দ করে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার এক নারী বাসন থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই দিনই মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তিন জনকে গ্রেফতার করে। শনিবার তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গাজীপুর আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে বলেও জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

/এআর/

লাইভ

টপ